ঢাকা : সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:০৫:৩৩
চকবাজারের মত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 


চকবাজার বা নিমতলীর মত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি ঘটতে না পারে সেজন্য সচেতন থাকার জন্যও তিনি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, বারবার এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চকবাজারের অগ্নিকান্ডে আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চকবাজার ট্রাজেডি পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম মালিকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় ঘটনা। তিনি বলেন, এবার নিশ্চই এসব গুদাম অন্যত্র সরিয়ে নিতে তারা আর আপত্তি করবেন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশাকরি এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদামগুলো সরিয়ে নেয়ার যে দাবি উঠেছে তাতে আর কেউ (মালিক পক্ষ) আপত্তি করবেন না।
২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজারের চুরিহাট্টা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে অন্তত ৬৭ জন নিহত এবং অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়।
অগ্নিকান্ডে ৫টি ভবন পুরোপুরি ভস্মিভূত হয় যেখানে কেমিক্যালের মজুদ এবং বিভিন্ন পণ্যের কাচামাল হিসেবে দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের কারখানা ছিল বলে দমকল বাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে।
এরআগে ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলী এলাকায় অনুরূপ এক রাসায়নিক গুদাম থেকে সৃষ্ট আগুনে অন্তত ১২৪ ব্যক্তি নিহত হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী চকবাজারের অগ্নিকান্ডের ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যায়িত করে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, আর যারা আহত তাদের চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আগামীকাল অফিস খুললে আমরা একটি শোক দিবসেরও ঘোষণা দেব।
তিনি এ সময় দমকল কর্মী এবং পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী এবং চিকিৎসকদের সচেতনতার এবং রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের পাশাপাশি তিনি নিজেও নির্ঘুম থেকে সেদিন সারারাত আগুন নিভানোর বিষয়টি তদারকি করেছেন এবং যে সমস্ত রোগীকে মেডিকেলে এসেছে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে বলেন, ইতোমধ্যে অনেকের লাশ সনাক্ত হয়েছে এবং তাদের স্বজনরা নিয়ে গেছেন। কয়েকজন এখনো যে সনাক্ত হতে পারেননি তাদের ডিএনএ টেস্ট করে স্বজনদের কাছে ফেরত দেয়া হবে, সেই প্রক্রিয়াও আমরা শুরু করেছি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় পুরান ঢাকায় রাসায়নিকের গুদাম রেখে দেয়ার বিষয়ে তাঁর ক্ষোভ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ইতোপূর্বে নিমতলীতে যখন আগুন লাগলো সে সময় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এখান থেকে যত কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ রয়েছে তার সব সরানো হবে। সেজন্য কেরানীগঞ্জে একটি জায়গাও আমরা ঠিক করলাম, উদ্যোগটা নিলাম এবং সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও করা হলো- এখানকার কেমিক্যালের যত গুদাম আছে (বৈধ বা অবৈধ) সেগুলো কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। যাতে করে এখানে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটতে না পারে।’ ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয় তাদের অনেকেই (মালিক পক্ষ) এতে রাজী হন নাই,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি এ সময় এ ধরনের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পাতার আরো খবর

Developed by orangebd