ঢাকা : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর          ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ১৮ মার্চ, ২০১৯ ১৫:০৯:২৫আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৯ ১৫:২৩:৪৩
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও শিশু দিবসে গৌরব '৭১-এর আয়োজনে শিশু কিশোরদের রং তুলিতে বঙ্গবন্ধু
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গৌরব ’৭১’।
 
 
১৭ মার্চ রবিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদে শিশু-কিশোর এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। একটানা চলে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। এরপর শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান।সবশেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরুস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
 
 
গৌরব ’৭১ এর সভাপতি এস এম মনিরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, কর কমিশনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন।
 
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক আইজিপি শহীদুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ সমার্থক। বিশ্বে যারা বাংলাদেশকে চিনে না, তারাও কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে চিনে। আমরা বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না।
 
 
অভিভাবকের উদ্দেশে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ, দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা আপনারা সন্তানদের বোঝাবেন। দেশপ্রেমের প্রতি তাদের এখন থেকে উদ্বুদ্ধ করবেন।
 
 
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন মানেই বাংলাদেশের জন্মদিন। গৌরব ‘৭১ এই আয়োজন করে জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছে। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও শিশু দিবসে গৌরব '৭১-এর আয়োজনে শিশু কিশোরদের রং তুলিতে বঙ্গবন্ধু
শিশুরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। বড় বড় ডিগ্রি হলে শুধু প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। প্রকৃত মানুষ হতে হলে সংস্কৃতির সাথে যুক্ত হতে হবে। এ আয়োজনটির সাথে যাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যুক্ত হয়, সে ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
 
 
পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে অমর করে রাখার জন্য এ চিত্রাঙ্গণ প্রতিযোগিতা। শিশুরা এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানবে, তার অবদান সম্পর্কে জানবে।
 
 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কি শিশুদের বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনান? উত্তরে অভিভাবকরা শোনান বলে জবাব দেন।
 
 
শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব রংয়ের মধ্যে লাল ও সবুজ বেশি আনন্দ দেয়, তাই না? জবাবে শিশুরা হ্যাঁ বলে উত্তর দেয় তখন তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় পতাকার রং লাল ও সবুজ। এজন্য এই দুটি রং আমাদের আলাদাভাবে আকর্ষণ করে। এ সময় তিনি শিশুদের জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান ধারণ করার উদাত্ত আহবান জানান।
 
 
আয়োজক সূত্র জানায়, চিত্রাঙ্গণ প্রতিযোগিতাটি তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে 'ক' বিভাগ অনুর্ধ ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত, তাদের জন্য কোনো নির্ধারিত বিষয় ছিল না। 'খ' বিভাগ ছিল ৪র্থ শ্রেণি থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত, তাদের জন্য নির্ধারিত বিষয় মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ। আর ‘গ’ বিভাগ ছিল ৭ম শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত, তাদের জন্য নির্ধারিত বিষয় ছিল বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ।
 
 
এই তিন বিভাগে মোট ৮৫০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্য থেকে প্রত্যেক বিভাগ থেকে ১০ জন করে মোট ৩০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, মুক্তিযুদ্ধের বই ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে এবং শারীরিকভাবে অক্ষমদের প্রত্যেককে মুক্তিযুদ্ধের বই ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
 
 
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন।বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও শিশু দিবসে গৌরব '৭১-এর আয়োজনে শিশু কিশোরদের রং তুলিতে বঙ্গবন্ধু
 
 
‘ক’ বিভাগের পুরস্কৃতরা হলো: প্রথম-কাহেরুন নেসা রিচি, দ্বিতীয়-তাহরিদ রশিদ, তৃতীয়- ফাহমিদ উবায়েদ ভূঁইয়া, চতুর্থ-জান্নাতুল হক, পঞ্চম-সুমাইয়া নুসাইয়া, ষষ্ঠ-জারিন মেহজাবিন, সপ্তম-অনুষ্কা হক, অষ্টম-বাইদুর রহমান অভয়, নবম-ফারিয়া হুমায়রা রাইহাদ এবং দশম-আফরা নাওয়া সিরাজী।
 
 
‘খ’ বিভাগের পুরুস্কৃতরা হলো: প্রথম-পিদমি রায়, দ্বিতীয়-জারির মাহমুদ, তৃতীয়-ফারহান শাহরিয়ার সন্ধি, চতুর্থ-লাবীবা আহমেদ, পঞ্চম-সাজ্জাদ হোসাইন, ষষ্ঠ-তানভীর ইসলাম, সপ্তম-মুবাসসির আরিফ, অষ্টম-জয়া রায়, নবম-অদিতি পোদ্দার এবং দশম-তাসফিয়া।
 
 
‘গ’ বিভাগের পুরুস্কৃতরা হলো: প্রথম-হায়দার সিয়াম, দ্বিতীয়-মেহতাসিবা হোসাইন, তৃতীয়-নাফিউল হক, চতুর্থ-মুশফিকা রহমান, পঞ্চম-ইয়াসিন আরাফাত শাফিম ষষ্ঠ-ইফশিকা পিও, সপ্তম-রাদিয়া আহমেদ, অষ্টম-সৈয়দা মুবাসসিরা, নবম-তাজিয়া তাহসিব এবং দশম-আবদুল্লাহ আল রাফি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd