ঢাকা : সোমবার, ২০ মে ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৫:৫৯:১৮আপডেট : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৮:২৬:৫৮
গ্যাস বিস্ফোরনে মানিকগঞ্জের আরিফসহ ৪ জনের মৃত্যু
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 

গ্যাসে বিস্ফোরনে গুরুত্বর আহত হয়ে চারদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে মারা গেলেন মানিকগঞ্জের আরিফ।
 
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ দুই জন এবং সোমবার একজন মারা যায়।
 
জানা যায়, সোমবার ভোররাতে সাওঘাট এলাকায় আইনজীবী রাবেয়া আক্তার মিলির তিনতলা ভবনে গ্যাসের গ্যাসের লাইন বিস্ফোরণ হয়ে বিকট শব্দ হয়। এতে ভবনের নিচতলা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিস্ফোরণে ওই দোতলা বাড়ির নিচতলার দেয়াল উড়ে ৩০০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে। ভবনের নিচতলায় স্থানীয় নেক্সট এক্সেসরিস লিমিটেড নামে একটি গার্মেন্ট শ্রমিকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের ফলে ঘটনাস্থলেই নেক্সট এক্সেসরিসের প্রিন্টের এক অপারেটর শামিম ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলার হেলাল নিহত হয়। এ সময় আহত ও দ্বগ্ধ হয় আরও ৭ শ্রমিক।নিহত শামিম (৩০) মেহেরপুরের মুজিবনগর থানাধীন কোমরপুর এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে ও হেলাল বিশ্বাস রাকিব ঝালকাঠির নলছিটি থানাধীন কয়া এলাকার রহিম বিশ্বাসের ছেলে।
 
গুরুতর আহত তরিকুল ইসলাম, আরিফ মিয়া (মানিকগঞ্জ), হযরত আলী এবং লিয়াকত হোসেনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে ভর্তি করে এলাকাবাসী। সোমবার রাত ৯টার দিকে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থানাধীন সারেংকাঠি এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন।
 
আরিফ মানিকগঞ্জের ঝিটকা বাজারের ব্যবসায়ী গনির ছেলে। তার বাড়ি এ জেলার গোপীনাথপুর উজান পাড়া গ্রামে। আরিফের শরীরে ৭৫% পুড়ে যায়। আজ দুপুরে তিনি মারা যান।
 
ঢাকা মেডিকেলে অবস্থানরত আরিফের বড় ভাই মোঃ লাভলু মুঠো ফোনে জানান, আরিফের লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লাশ আমাদের গ্রামের বাড়ি ঝিটকার গোপীনাথপুর উজান পাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।গ্যাস বিস্ফোরনে মানিকগঞ্জের আরিফসহ ৪ জনের মৃত্যু
 
তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলে দুই জন মারা যান। আর আমার ভাই ও আরেক জন ঢাকা মেডিকেলে বার্ন ইউনিটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
 
গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিস্ফোরক অধিদফতর কার্যালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
 
বাড়ির মালিক রাবেয়া আক্তার মিলি বলেন, অন্যরা যেভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়েছে, আমিও সেভাবেই নিয়েছি। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে।
 
তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁ জোনের সুপার ভাইজার ইসমাইল হোসেন বলেন, আগেও এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। হাইপ্রেশার লাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাসের সংযোগ নেওয়া এবং শবে বরাত উপলক্ষে সব ধরনের মিল-কারখানা বন্ধ থাকায় গ্যাসের প্রেশার বেশি ছিল। গ্যাস পুরো ভবনের ভেতরে ছড়িয়ে ছিল। আগুনের সংস্পর্শে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। খবর পেয়ে ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ ও কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
 
এদিকে, বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনায় তিতার গ্যাস সোনারগাঁও আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক মিজবাহ উর রহমান ও রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক রোকনুজ্জামান বাদী হয়ে রাবেয়া আক্তার মিলির নামে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
 
এ ব্যাপারে গতকাল রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহামুদুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।  বিষয়টি  তদন্ত চলছে। আশা করি খুব শিগগির বিস্ফোরণের কারণ জানা যাবে। বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে বাড়ির মালিক রাবেয়া আক্তার মিলিকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd