ঢাকা : বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৪০:৩২আপডেট : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৪২:২০
কার্পাল টানেল সিনড্রোম
ডা. মোঃ সাহিদুর রহমান খান


 

কার্পাল টানেল সিন্ড্রোম (ইংরেজি: Carpal-Tunnel Syndrome) এক প্রকারের কব্জির প্রদাহজনিত রোগ। কারপাল টানেল অর্থাৎ কব্জির হাড়গুলির(ও সংশ্লিষ্ট কব্জি ভাজকরার পেশীগুলির সংযোগকারী টেন্ডন সমূহের)মধ্যবর্তী সুড়ঙ্গে মিডিয়ান স্নায়ুর নিষ্পেষণ/পীড়ন জনিত কারণে এই প্রদাহ হয়ে থাকে। কারপাল টানেল সিন্ড্রোম Carpal-Tunnel Syndrome কব্জির তীর্যক অংশ। হলুদ মেডিয়ান নার্ভ। হাড় এবং তীর্যক কারপল লিগামেন্ট দ্বারা গঠিত কারপাল টানেল।
উপসর্গ বা লক্ষণ
বৃদ্ধাঙ্গুলি, নির্দেশিকা অঙ্গুলি, মধ্যাঙ্গুলি, দূর্বল গ্রিপে ব্যথা, অসাড়তা, অস্বস্তি|
কারণসমূহ
কারপাল টানেলে মিডিয়ান নার্ভের কম্প্রেশন।
ঝুঁকিসমূহ
স্থূলতা, বারংবার কব্জির কাজ, গর্ভাবস্থা, রিউমাটয়েড আর্থথ্রিটিস (অজ্ঞাতকারণজাত ক্রমবর্ধনশীল গ্রন্থিপ্রদাহ)
রোগনির্ণয়
লক্ষণগুলো, নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষা, ও ইলেক্ট্রোডায়াগোনেস্টিক পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে।
প্রতিরোধ
দৈহিক কার্যক্রম, চিকিৎসা কব্জি স্প্লিন্ট, কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন, সার্জারি।
প্রাদুর্ভাবের হার
৫-১০% নিয়মিত ও ক্রমাগত ভাবে কব্জির উপর চাপ পড়ে, যেমন - অনেকক্ষণ ধরে টাইপ করা - এরকম কাজ এই রোগে ঘটায়। কারণ- দীর্ঘ সময় ধরে বারংবার একই কাজ (রিপিটিটিভ স্ট্রেস ইনজুরি) চাপ দিয়ে কাজ করা কব্জি বিশৃঙ্খল ভাবে রাখা কম্পন সি টি এস সমস্যাতে সাধারণত মাউস ব্যবহার কারি হাতই আক্রান্ত হয়ে থাকে, তবে কি-বোর্ড ব্যবহার থেকেও এটি হতে পারে ৷ নার্ভ আক্রান্ত হওয়ার ফলে এর প্রভাব অনেক ব্যাপক হয় বা হতে পারে৷
উপসর্গ
সাধারণত কব্জিসন্ধিতে ব্যাথা বা অস্বস্তী লাগা বেশী সময় কাজ করতে না পারা হাতের পেশীতে ব্যাথা হওয়া এবং হাত অসাড় মনে হওয়া, রাতে ব্যাথা হওয়া, শক্ত হয়ে যাওয়া, হাতে শক্তি না পাওয়া ইত্যাদি৷
চিকিসা
এই রোগের উপষমের জন্য শল্যচিকিৎসা ও অন্যান্য ধরণের চিকিৎসা চালু আছে। মারাত্মক আকার ধারণ করলে অর্থাৎ রাতে ঘুমাতে না পারার মত ব্যথা বা কাজ করাই যায় না এমন অবস্থা হলে স্প্লিন্ট স্থাপন, হাইড্রোকর্টিসোন ইন্জেকসন, বা শল্য চিকিৎসা দ্বারা মিডিয়ান স্নায়ুকে চাপমুক্ত করার দরকার হতে পারে৷ অস্ত্রোপচার করে স্নায়ুকে চাপমুক্ত করে পেশী সমুহের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। সাধারণত মারাত্মক আকার ধারণ করলতবেই শল্য চিকিৎসা করতে হতে পারে৷ পুরো উন্মুক্ত না করে দূরবীন জাতীয় অস্ত্রোপচারও করা সম্ভব। রোগের কারণ দূর করা চিকিৎসা ছাড়া, এর উপসর্গের নানা উপশমপদ্ধতি চালু আছে, যেমন: ব্যাথার ওষুধ, আল্ট্রা সাউন্ড, লেজার থেরাপি ইত্যাদি৷
প্রতিরোধের উপায়
কব্জির ব্যায়াম এই রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী৷ হাতের, কব্জীর বিভিন্ন ব্যান্ড এবং বিভিন্ন ধরনের এক্সারসাইজ করলে ব্যাথা কমে যায়|
লেখক : ডাক্তার মোঃ সাহিদুর রহমান খান, কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক সার্জন
ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কল্যানপুর, ঢাকা

printer
সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্য ও জীবন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd