ঢাকা : বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ০৪ জুন, ২০১৯ ০০:০১:১৬আপডেট : ০৯ জুন, ২০১৯ ১৪:৪৪:৩৪
দারিদ্র্য বিমোচনে আলোকবর্তিকা গবেষক আবিষ্কারক ও উদ্ভাবক প্রকৌশলী ফজলুল করিম
সা মো. মসিহ রানা


 


দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। পরিপূর্ণ ঈমানদার একজন প্রকৃত সাচ্চা মুসলমানই একটি জাতি রাষ্ট্রের উন্নয়ন-অগ্রগতির আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। মহান স্রষ্টা যুগে যুগে অন্ধকারাচ্ছন্ন পিছিয়ে পড়া জাতিকে সঠিক পথের সন্ধান দিতে মহাপুরুষদের প্রেরণ করে থাকেন। এমনই একজন মহাপ্রাণ ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী আলহাজ ফজলুল করিম। নিখাদ দেশপ্রেম, দেশ-মাটি ও মানুষের প্রতি যাঁর আন্তরিক ভালোবাসা, মমত্ববোধ অত্যন্ত টনটনে। যাঁর আজীবন লালিত স্বপ্ন দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন। যে স্বপ্ন বাস্তবে রূপায়িত করতে যাঁর সংগ্রাম অব্যাহতভাবে চলছে। মহান আল্লাহর সৃষ্ট জীবের প্রতি গভীর ঐকান্তিক ভালোবাসার উপহারস্বরূপ তিনি এমন কিছু চমক সৃষ্টিকারী উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী হয়েছেন যেসব গবেষণা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে শুধু দারিদ্র্য বিমোচনই নয়, উন্নয়ন-অগ্রগতির সাফল্যে পুরো দেশের চেহারা পাল্টে যেতে পারে। উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে এ গবেষণা হতে পারে অনুকরণীয়।

মেধাবী এই পুরুষের বয়স, বেশ-ভূষায় বৃদ্ধের ছাপ দেখা গেলেও দৃষ্টিভঙ্গির প্রখরতা, আচার-আচরণ, কর্মকৌশল, মেধা-মননশীলতায় তাঁর মাঝে টগবগে তারুণ্য সুস্পষ্ট। যুগোত্তীর্ণ এমনই এক ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী আলহাজ ফজলুল করিম ‘দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি’র ছায়াবরণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত অভিজ্ঞতা, মেধা-মননের কৌশল এবং বুদ্ধিমত্তার পারস্পরিক সমন্বয় সংযোগ সৃষ্টি করে। তাঁর দীর্ঘসময়ের গবেষণাকর্মের মাধ্যমে অর্জিত উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে- নদীভাঙন রোধ, নদী ও খাল খনন, নদীতীরের জলাধার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ভূ-গর্ভস্থ পানি পূরণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য খামার, সমন্বিত মৎস্য প্রকল্প, শিং মাছের খামার, কৈ মাছের খামার, ভাসমান চাষ, ভাসমান পিভিসি টয়লেট, মোবাইল টয়লেট, স্থায়ী কংক্রিটের টয়লেট, ধাতব শীটের তৈরি টয়লেট, কচুরিপানার সার, বায়োগ্যাস, জোয়ারভাটার শক্তি বিদ্যুৎ, ঢেউশক্তি বিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি বিদ্যুৎ, সম্মিলিত শক্তি বিদ্যুৎ, নিরাপদ লঞ্চ, নিরাপদ ট্রলার, ট্রলার পাম্প, যান্ত্রিক সাঁতারু, হাঁটার ভেলা, বালি-সিমেন্টের ইট, ইটভাটার ধোঁয়ার ফিল্টার, গাড়ির ধোঁয়ার ফিল্টার, দূষণমুক্ত ডাইং ফ্যাক্টরি, সেবা চুলা, আবর্জনার ভ্যান হস্তচালিত প্রেসসহ, আখের রস প্রকল্প, খেজুরের রস প্রকল্প, স্বাস্থ্যসম্মত গুড় প্রকল্প, বৃক্ষ রোপণ, বোতলে সবজি চাষ, আলু সংরক্ষণ, পিরামিড ঘর, সরু ওভারব্রিজ, দ্রুত রাস্তা মেরামত, ক্ষুদ্র রেলগাড়ি, উন্নত রিকশা, শূন্য রিকশা, ক্ষুদ্র চাউল কল, ইঁদুরের কল, মশা মারার যন্ত্র, হাত লাঙ্গল, জাংলা প্রকল্প ও গো-সমবায় খামার।

আলহাজ ফজলুল করিম একাধারে একজন বিজ্ঞানী, গবেষক, আবিষ্কারক ও উদ্ভাবক। তাঁর সকল উদ্ভাবন বা আবিষ্কার এবং গবেষণা মানব কল্যাণমুখী। জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করাই তাঁর মূল ব্রত ও সাধনা। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের দারিদ্র্যপীড়িত একটি দেশ, এখানকার অসংখ্য মানুষের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে। এখানে রয়েছে যথাযথ কর্মসংস্থানের অভাব এবং তার বিরূপ পরিণতিতে দেশের বিপুল সম্ভাবনাময় যুবশক্তি বিভ্রান্ত হয়ে অন্ধকারমুখী; এ প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই তাঁর কর্মসংস্থানমূলক দারিদ্র্য বিমোচন সহায়ক কর্মসূচির উদ্ভাবন। তাঁর উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিসরে এখানে আলোচিত হলো-

মুক্তিজাল :
অভয়াশ্রমের মাছ ধরার সবচেয়ে সুবিধাজনক এবং আদর্শ যন্ত্র হলো ‘মুক্তি জাল’। মুক্তি জাল পাতা হবে অভয়াশ্রমের ঠিক মাঝখানে যুক্ত আঙ্গিনায়। এর চার কোণায় চারটি খুঁটি থাকবে, খুঁটির ওপর ও নিচে থাকবে ৮টি রিং। রিংগুলোতে বাঁধা থাকবে জালের উপরের ৪টি এবং নিচের ৪টি কোণা। হস্তচালিত দুটি উইঞ্চের সাহায্যে মুক্তিজাল ওঠা-নামা হবে। উপরের ৪টি কোণায় ৪টি সুতলি (নায়লন কর্ড) বেঁধে একত্র করে এক নম্বর উইঞ্চের চাকায় বাঁধতে হবে ২ নম্বর উইঞ্চের চাকা। মুক্তি জাল দেখতে চতুষ্কোণ বর্গাকৃতির ঠিক মশারির মতো। তবে পাততে হবে চান্দিটি নিচের দিকে রেখে। আপাতত জালটি দৈর্ঘ্য প্রস্থে ৩০ ফুট করে হবে, উচ্চতা হবে ১৫ ফুট। প্রয়োজনে বাড়ানো-কমানো যাবে। জালটি নিচ থেকে ওপরের দিকে মাছসহ টেনে তুলতে হবে বলে যথেষ্ট মজবুত হওয়া দরকার। এ জন্যে জালটি তিন প্রস্থের করাই বাঞ্চনীয়। নিচের দিকে থাকবে মোটা সুতার বড় খোপ, মাঝে মাঝারি খোপ এবং উপরে ছোট খোপের জাল। বড়, মাঝারি এবং ছোট সব ধরনের মাছই একত্রে তোলা যাবে। জালটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে পাড়ের দিকে ক্রমশ ঢালু হয়। পাড়ের দিকে মাঝখানে ৫-৬ ফুট ব্যাসের একটি পকেট থাকবে। পকেট নিচ দিক থেকে খোলার ব্যবস্থা রাখতে হবে। উইঞ্চ দু’টি থেকে সুতলি ঢিল দিয়ে জাল মাটির ওপর বিছানার চাদরের মতো পাততে হবে। চার দিকের চারটি দেয়াল ভাঁজ হয়ে পড়ে থাকবে। জালের তিন দিকে ঝোঁপ দেওয়া হবে; যাতায়াত এবং মাছ ধরার সুবিধার্থে (পাড়ের দিকে) একদিক খোলা থাকবে। জালের তিন দিকে ডাল-পালার ঝোঁপে নিয়মিত খাদ্য দিতে থাকলে পানির সব ধরনের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খাদ্যের লোভে ঝোঁপে চলে আসবে, সেখানেই আশ্রয় নিয়ে থেকে যাবে এবং নিরাপদে বড় হতে থাকবে।

উদ্ভাবকের বক্তব্য
মুক্তি জাল প্রসঙ্গে আলাপকালে উদ্ভাবক ফজলুল করিম বলেন, আমার সুদীর্ঘ ৩০ বছরের সাধনার ফল এই ‘মুক্তি জাল’। এ জালের প্রয়োগ, প্রচলন, প্রচার ও প্রসার জাতির জন্যে মৎস্য জগতে অকল্পনীয় সম্ভাবনার নতুন এক দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আমার বিশ্বাস। এতে কয়েক লাখ বেকারের কর্মসংস্থান হবে; কারণ এই কনসেপ্টের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে হাজার হাজার অভয়াশ্রম- সমুদ্রের উপকূলে (এমনকি সুন্দরবনেও), নদীর দুই পাড়ে, কাপ্তাই লেকে, বিলে, হাওর-বাঁওড়ে, বড় খালে, বড় দিঘি ও জলাবদ্ধ এলাকায় এক কথায় আমাদের জলাভূমি কোনোটাই বাদ থাকবে না।
এ উদ্ভাবনের নাম প্রসঙ্গে তিনি জানান, জালটির উদ্ভাবনকাল ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের সময়। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিসেনাদের স্মরণীয় করে রাখতে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘মুক্তি জাল’।

নদী ভাঙন রোধ
নদী ভাঙন এ দেশের জন্যে একটি অন্যতম ও ভয়াবহ সমস্যা। নদী ভাঙনের কারণে এ দেশের অনেক প্রসিদ্ধ এলাকা ও জনবসতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে; আর এর শিকার মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব তথা রাতারাতি পথের ভিখারীতে পরিণত হয়েছে। এরই বিরূপ প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এমনকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে। নদী ভাঙনের বিরূপ প্রভাব সরাসরি যাদের উপর পড়ে তারা ছাড়াও পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থায়ই এর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কালো প্রভাব পড়ে। আমাদের মতো দেশ এ সামাজিক বিরূপ প্রভাব সামাল দিতে বরাবর ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। বিষয়টি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল করিম। তিনি এ ব্যাপারে গবেষণাকর্ম চালিয়ে যান দীর্ঘদিন এবং নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর উপায় উদ্ভাবন করেন। নদী কেন ভাঙে, নদী কখন ভাঙে, ভাঙন রোধে যা যা প্রয়োজন, পাড় ভাঙন রোধের পদ্ধতি এসব ছিলো তাঁর গবেষণার মূল বিষয়বস্তু।

উদ্ভাবকের বক্তব্য
নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর উপায় উদ্ভাবন সম্পর্কে ফজলুল করিম বলেন, আমার উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি ব্যয়সাপেক্ষ তবে তা প্রচলিত ব্যয়ের চেয়েও অনেক কম এবং দীর্ঘস্থায়ী। প্রচলিতভাবে নদীভাঙন রোধে সরকার ‘আইওয়াশ’ মূলক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে; যা ‘ঝিনুক দিয়ে সমুদ্র সেচা’র সামিল। যেটুকু করা হয় তা থেকে ফায়দা লোটে এদেশেরই অসৎ, দুর্নীতিবাজ, দেশপ্রেম বিবর্জিত, অপরিণামদর্শী, লোভী, স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, নিষ্ঠুর কিছু লোক। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে এ রীতি। খরচ হয়েছে জনগণের কোটি কোটি টাকা। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরকমই যদি চলতে থাকে তবে কেয়ামত পর্যন্ত রোধ হবে না নদী ভাঙন প্রক্রিয়া। তিনি জানান, তাঁর প্রস্তাবিত পরিকল্পনা সফল হলে কম ব্যয় বিধায় ভুক্তভোগীরাই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপূরণীয় ক্ষতিকর এ বিপর্যয় থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে। তবে সূচনা করতে হবে সরকারের তরফ থেকেই। এর সুফল হবে ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। ভাঙনমুক্ত নদীর পাড়েই গড়ে উঠবে কম খরচে জলযান সুবিধাসহ শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র, আবাসস্থল। গড়ে উঠবে মাছের জন্য প্রচুর ক্ষুদে অভয়াশ্রম। দূর হবে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সন্ত্রাস, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, জলদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-। এছাড়া ভাঙনমুক্ত নদীর পাড়কে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হলে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের একটি পথ উন্মুক্ত ও প্রশস্ত হবে।

গো-সমবায় খামার
গো-সমবায় আলহাজ ফজলুল করিমের আরেকটি গণমুখী বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন সর্বোপরি দেশের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়নকারী উদ্ভাবন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি গ্রামভিত্তিক বাংলাদেশের গ্রামের সার্বিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, শহরমুখী গণ¯্রােত হ্রাস, পরিবেশ দূষণ রোধ, বায়োগ্যাস, জৈব সার উৎপাদন ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় সবিশেষ গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে। এ প্রকল্পকে ঘিরে উদ্ভাবক ট্যানারি শিল্প, দুধ, দুগ্ধজাত মিষ্টান্ন সামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত সামগ্রী রপ্তানি, গো- সমবায় ব্যাংক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অর্থাৎ গ্রামভিত্তিক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক সেক্টরের মডেল তৈরির প্রয়াস পেয়েছেন। পাশাপাশি এসব সম্ভাবনাকে কীভাবে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সফলতা অর্জন সম্ভব তা বিস্তারিত ব্যাপকভিত্তিক গবেষণা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে গবেষক উদ্ভাবক ফজলুল করিম জানান, গো-সমবায় খামারকে কেন্দ্র করে অবিশ্বাস্য মনে হলেও দেশে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব। যা প্রয়োগের মাধ্যমে অতিদ্রুত এবং সহজেই আমরা বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দিতে পারি; যা দেখে বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলবে- সাবাশ বাংলাদেশ, সাবাশ।

হাওয়াই রিকশা
মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের চাহিদা এবং নিম্ন বিত্তের কর্মসংস্থান সর্বোপরি যানজট নিরসনের উপর সবিশেষ দৃষ্টি নিবন্ধের ফলশ্রুতিতে ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল করিম ব্যাপক চিন্তাভাবনা- গবেষণা পরিচালনা করেন। এ গবেষণারই সফল উদ্ভাবন ‘হাওয়াই রিকশা’। তাঁর উদ্ভাবিত হাওয়াই রিকশার সুবিধাজনক দিকগুলো হচ্ছে- ১. যানজট থেকে মুক্তি, ২. দূষণমুক্ত পরিবেশ, ৩. সময়ের অপচয়রোধ, ৪. সস্তা, নিরাপদ, আরামদায়ক দ্রুত ভ্রমণ, ৫. বহুমুখী ও ব্যাপক লোকের কর্মসংস্থান, ৬. নতুন শিল্প সম্ভাবনা, ৭. চাষের জমি নষ্ট হবে না, ৮. জমির জন্যে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে না।, ৯. জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি ও জটিলতা হ্রাস পাবে, ১০. দুর্ঘটনার আশংকা ও ক্ষতি সর্বনি¤œ, ১১. খুবই কম ব্যয়ে তৈরি হবে, ১২. সমবায়ের মাধ্যমে বহুলোক অংশগ্রহণ করতে পারবে, ১৩.  প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার নিশ্চিত উন্নয়ন হবে, ১৪. পুলিশ বিভাগের সদস্যগণ ঝামেলামুক্ত হবে, ১৫. শহর-গ্রাম সর্বত্র প্রাণচাঞ্চল্য বাড়বে এবং দেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে, ১৬. রক্ষণাবেক্ষণে সীমিত ব্যয়, ১৭. হাওয়াই রিকশার জন্যে ব্যাংক সহায়তা, ১৮. বিপজ্জনক নৌ, রেল ও সড়ক পথের উপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে,  ১৯. শহরের ধনীদের গ্রামে যেতে আগ্রহী করে তুলবে, ২০. সরকারি অনুদান।
উদ্ভাবক গবেষক ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল করিম হাওয়াই রিকশা প্রসঙ্গে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বলেন, ‘হাওয়াই রিকশা’ যত শিগগির সম্ভব কার্যকরি হলে তাতে দেশের অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হবে। তিনি বলেন, পাতাল রেল হাওয়াই রিকশার বিকল্প হতে পারে না। কিন্তু হাওয়াই রিকশা পাতাল রেলের শুধু বিকল্পই নয় বরং অনেক কল্যাণকরও হবে।

ভ্রাম্যমাণ টয়লেট
রাজধানী মেগাসিটি ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরসমূহ শহর, নগর, উপজেলা সদর দপ্তর, কোর্ট-কাচারি, অফিস, ব্যবসাকেন্দ্র এসব স্থানে কর্মোপলক্ষে যাতায়াতকারী, পথচারীদের একটি অতি প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার অবলম্বন টয়লেট। উল্লিখিত স্থানসমূহে পর্যাপ্ত, স্বাস্থ্যসম্মত, পূত পবিত্রতা রক্ষার মতো টয়লেট ব্যবস্থার চরম সংকট। অত্যন্ত তীক্ষè সচেতন দৃষ্টিসম্পন্ন প্রকৌশলী ফজলুল করিমকে বিষয়টি অত্যন্ত গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। তিনি এর একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করেন। ষাটের দশকে তিনিই প্রথম উদ্ভাবন করেন ভ্রাম্যমাণ টয়লেট। ১৯৬২ সালে তিনি উক্ত ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের একটি মডেলও তৈরি করেন। তাঁর উদ্ভাবিত ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের মাধ্যমে ১. মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা হবে, ২. বায়ু মানববর্জ্য মিশ্রিত ধূলিমুক্ত হবে, ৩. পরিবেশ দুর্গন্ধমুক্ত হবে ৪. আদম সন্তানগণ প্রকৃতির ডাকের অসহনীয় কষ্ট থেকে অতিদ্রুত রেহাই পাবে, ৫. শহর পরিচ্ছন্ন হবে, ৬. বিভিন্ন পর্যায়ে বহুলোকের কর্মসংস্থান হবে, ৭. বিদেশিদের কাছে এবং বিদেশে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, ৮. বায়ুবাহিত রোগজীবাণু ছড়াবে না, ৯. জনস্বাস্থ্য উন্নত হবে।

অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পর্যালোচনা  করলে একটি স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছা সম্ভব যে, প্রকৌশলী আলহাজ ফজলুল করিমের চিন্তা-চেতনা, গবেষণা, উদ্ভাবন সবকিছুর মূলই হচ্ছে স্বদেশ প্রেম। দেশ ও দেশের মানুষের কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি, পরিবেশ পারিপার্শ্বিকতা। যার সামাজিক ফলাফল তাঁকে একজন মহৎ, জনহিতৈষী এবং আদর্শ দেশপ্রেমিকের গুণে বিশেষায়িত করেছে।

ফজলুল করিমের জন্ম ১৯২৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর। পিতা মরহুম আলহাজ আবদুল আজিজ টিকে, মাতা মরহুমা হাজেরা খাতুন। ফজলুল করিম ১৯৪৭ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেট্রিক পরীক্ষা পাস করেন। পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে থাকাকালীন ১৯৫৫ সালে অ্যারো ইঞ্জিন টেকনোলজিতে কৃতিত্বের সাথে ডিপ্লোমা করেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে। ১৯৪৯-৫৯ পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে এনসিও, ১৯৫৬ সালে ফ্রান্সে জঙ্গি বিমান স্যাবর জেটের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ, ১৯৬১-৭৭ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে মেকানিক্যাল ফোরম্যান, ১৯৭৭-৭৯ ইম্পেরিয়াল ইরানিয়ান এয়ারফোর্সে এ্যারোইঞ্জিন বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব পালন, ১৯৮২-৯০ কুয়েত মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্সের অধীনে অটোমোবাইল প্রকৌশলীর দায়িত্বপালন করেন। পেশা, কর্মজীবনের পাশাপাশি বর্তমান অবসরকালীন সময়ে তিনি গবেষণা, উদ্ভাবন কর্মকা- নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তাঁর গবেষণা প্রেক্ষিতে উদ্ভাবিত প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশ-জাতি, সর্বোপরি মানুষের কল্যাণে সাধিত হলেই তাঁর স্বপ্নপূরণ হবে বলে তিনি মনে করেন।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক
রচনাকাল : জানুয়ারি ২০০৬
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd