ঢাকা : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২০ জুন, ২০১৯ ১৩:৪৪:০৩আপডেট : ২০ জুন, ২০১৯ ১৬:০০:৫০
বাজেট বাস্তবায়নের উপর বেশি জোর দেয়া অতীব প্রয়োজন
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 


দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ মজবুত করার জন্য সুপরিকল্পিত ও সম্প্রসারণধর্মী বাজেটের কোন বিকল্প নেই। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) মনে করে বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীতকরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে একটি বহুমুখী, বাস্তবায়নযোগ্য এবং সম্প্রসারণশীল বাজেটের প্রয়োজনিয়তা অপরিহার্য।
২০ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে আইবিএফবির প্রেসিডেন্ট ও এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশিদ এ কথা বলেন।
২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা দেয়ার জন্য আইবিএফবি প্রেসিডেন্ট অর্থমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো ও এর গতি প্রকৃতির সাথে তুলনা করলে এ বাজেট বরাদ্দ খুব বেশী নয়। এদেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশী বিনিয়োগ বৃিদ্ধ ও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, অবকাঠামোগত উন্নয়নে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বৃদ্ধি, সামগ্রিক ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের জন্য বাজেটের পরিমান আরো বৃদ্ধি করার অবকাশ ছিল।
আইবিএফবি বিগত কয়েকটি অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা করে বলেন, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের তুলনায় ১৬ শতাংশের বেশী। এর মধ্যে ৬০ হাজার ১০৯ কোটি টাকা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় হবে যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় ১৯.৩ শতাংশ। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা, যা বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটের চেয়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশী। এ উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বা এডিপি’র পরিমাণ ২ লক্ষ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা যা প্রাক্কলিত জিডিপি (২৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা) এর প্রায় ৭ শতাংশ এবং প্রস্তাবিত বাজেটের প্রায় ৩৮.৭৫ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরেও মোট ব্যয়ের মাত্র ৩৮.৬৭ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে জিডিপি বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ অবদান রাখা উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিবর্তে অনুৎপাদনশীল খাতে সরকারের সিংহভাগ অর্থ ব্যয় করতে হবে। আইবিএফবি বিশ্বাস করে, একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করার জন্য সেদেশের বাজেটের কমপক্ষে ৪৫ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা উচিত। তা না হলে আমাদের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন অর্থাৎ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, ২০৩০ সালের মধ্যে এস ডি জি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং তৎপরবর্তীতে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে পারে।
সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বাড়ানোর ঘোষণার পাশাপাশি এ খাতে মাননীয় অর্থমন্ত্রী মোট বাজেটের ১৪.২১ শতাংশ এবং জিডিপির ২.৫৮ শতাংশ এর সম পরিমাণ ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন যা বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে ৯ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা বেশি। এছাড়া তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে স্টার্টআপ তহবিলে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, বৈধভাবে রেমিটেন্স প্রেরণ উৎসাহিত করতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদানের জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ, প্রায় ৯ বছর পরে পুনরায় বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্ত করার ঘোষণা, দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও পণ্য রপ্তানীতে উৎসাহ প্রদান, সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করার চিন্তা প্রস্তাবিত বাজেটের অন্যতম প্রশংসনীয় দিক যার জন্য অর্থমন্ত্রীকে আইবিএফবি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায়।
আইবিএফবি বলেন, বিগত ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে প্রকৃত বাজেট বাস্তবায়নের হার যথাক্রমে মাত্র ৮০.০০ ও ৭৯.১২ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত প্রকৃত বাজেট বাস্তবায়নের হার মাত্র ৪৪.৪১ শতাংশ। এখানে উল্লেযোগ্য যে, প্রতি বছর বাজেটের বড় অংশ কাটছাট করা হলেও কাটছাটকৃত বাজেটর সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হয় না, যা বাজেট বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষেরই বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার জোর দাবী রাখে। ২০১৪-১৫ সালে ভারত, ভিয়েতনাম ও উগান্ডা যেখানে যথাক্রমে ৯২.৭%, ১০০% ও ৮৯.৩% বাজেট বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলো সেখানে বাংলাদেশের বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিলো মাত্র ৮১.১% এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারত ও ভিয়েতনাম ১০০% এবং উগান্ডা ৯০.৩% বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলেও বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে মাত্র ৮০%, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের বাজেট বাস্তবায়নে অসক্ষমতাকেই প্রকাশ করে।
তাই বাজেট বাস্তবায়নের হারকে যথাযথভাবে বৃদ্ধি এবং কাজের গুণগতমান সবক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে বাজেট বাস্তবায়নের কারিগরি এবং প্রায়োগিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর বেশি জোর দেয়া অতীব প্রয়োজন এবং তার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা উচিত বলে আইবিএফবি মনে করে।
আইবিএফবি মনে করে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বল্পমূল্যে পণ্যসামগ্রী জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য দেশে শিল্পস্থাপনকে উৎসাহিত করা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। কিছু কিছু শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের উপর শুল্ক কর কমানোর প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানায়।
প্রস্তাবিত বাজেটে অগ্রীম কর (অফাধহপব ঞধী বা অঞ) এর প্রস্তাব করা হয়েছে, কিন্তু এর কোন সুনির্দিষ্ট সংঞ্জা বা ব্যখ্যা দেয়া হয়নি। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মোটর সাইকেলের কাঁচামাল ও কম্পোনেন্ট আমদানীর ক্ষেত্রে রেয়াতী হারে শুল্ক পরিশোধ করা হয় যেখানে কোন নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি), সম্পূরক শুল্ক (এসডি), মূসক (ভ্যাট) ও অগ্রীম মূসক (এটিভি) প্রদেয় হয়না। কিন্তু নতুন আইনের আওতায় রেয়াতী হারে শুল্ক পরিশোধের পাশাপাশি আমদানী পর্যায়ে ৫ শতাংশ অগ্রীম কর পরিশোধ করতে হবে যা পরবর্তীতে সমন্বয়ের কোন সুযোগ নেই। এতে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে যা শেষপর্যন্ত ভোক্তার উপরেই চাপ সৃষ্টি করবে।
কৃষি উপকরণ, কীটনাশক, সার, বীজ ইত্যাদির আমদানী শুল্কমুক্ত রাখা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কৃষি যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ আমদানীতে পূর্বের ন্যায় রেয়াতি শুল্কহার অব্যাহত রাখা এবং ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে চালের উপর আমদানী শুল্ক ২৫ শতাংশ ও রেগুলেটরী ডিউটি ২৫ শতাংশ অব্যাহত থাকা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ফসলহানির ক্ষতি থেকে কৃষকদের বাঁচাতে “শস্য বীমা” চালুর প্রস্তাব বাজেটের অন্যতম প্রশংসনীয় দিক। কিন্তু আমদানীকৃত ভোজ্যতেলের উপর আমদানী পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপের ফলে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাবে যা শেষপর্যন্ত মধ্যবিত্ত এবং বিশেষতঃ নি¤œবিত্ত শ্রেণীর জনগণের উপর বাড়তি চাপ তৈরী করবে। স্থানীয় মৎস্য, পোল্ট্রি ও ডেইরী শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে এ খাতের উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী আমদানীতে পূর্বের ন্যায় রেয়াতি সুবিধা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন উপকরণ ও যন্ত্রপাতি আমদানীতেও রেয়াতি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব প্রশংসার দাবী রাখে। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট কিছু কর প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লিফ্ট, রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসর, এয়ার কন্ডিশনার, মোটর, মোল্ড ইত্যাদি শিল্পের সুরক্ষার জন্য আমদানীতে শুল্ক হ্রাস করা প্রস্তাব অত্যন্ত প্রশংসনীয় দিক।
স্থানীয় মোটরসাইকেল শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশকে উৎসাহিত করতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে প্রদত্ত রেয়াতি প্রণোদনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও এর যন্ত্রাংশ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের উপর বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করার জন্য আইবিএফবি মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। অন্যদিকে আমদানীকৃত ১৬ রিম সাইজ এলসিভি টায়ার, মোটরসাইকেল টায়ার, সিএনজি/এলপিজিচালিত বেবিটেক্সি ও হালকা যানবাহনে ব্যবহৃত রাবার টিউবের ওপর বিদ্যমান রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ প্রস্তাব করার কারণে স্থানীয় টায়ার ও টিউব উৎপাদনকারী শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ তরান্বিত হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে রপ্তানীমুখী পোশাকশিল্প খাতে বিদ্যমান প্রণোদনার পাশাপাশি অতিরিক্ত আরো ১ শতাংশ প্রণোদনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট সংগঠনসমূহের দাবী করা ৫ শতাংশ রপ্তানী প্রণোদনার তুলনায় এটি অত্যন্ত কম। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে পোশাক রপ্তানীতে উৎসে কর সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা না থাকায় রপ্তানীতে উৎসে কর বিদ্যমান ০.২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১ শতাংশ হারে নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রধান রপ্তানী খাতটির ঘুরে দাঁড়ানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ব্যক্তি খাতে করমুক্ত আয়ের সীমা না বাড়ানোতে নি¤œ আয়ের মানুষের উপর চাপ বাড়বে। নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য আরেকটি দঃসংবাদ হলো এবাবের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে উচ্চবিত্ত শ্রেণীর জন্য সারচার্জ আরোপযোগ্য নীট সম্পদের সীমা বিদ্যমান ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যাক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা অন্ততঃপক্ষে তিন লক্ষ টাকা করা এবং করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আরো বাস্তবমূখী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
তবে প্রস্তাবিত বাজেটে রপ্তানীমুখী পোশাকশিল্প খাতে আয়কর বিদ্যমান ১২ শতাংশ ও গ্রীন সনদপ্রাপ্ত কারখানার জন্য ১০ শতাংশ এবং বস্ত্র (টেক্সটাইল) খাতের জন্য বিদ্যমান ১৫ শতাংশ আয়কর অব্যাহত রাখা প্রশংসনীয় দিক। এদেশের অর্থনীতিতে কর্পোরেট কর হার তুলনামূলকভাবে বেশী। কর্পোরেট কর হার বেশী হলে প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যায় যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যবসায়ী সমাজের বারংবার অনুরোধ ও তৎপরবর্তীতে আশ^াস সত্ত্বেও করপোরেট কর হার কমানো হয়নি। অন্যদিকে টেলিকম ও ব্যাংক খাত অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সত্ত্বেও এ দুটি খাতের কোম্পানী শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত হলেও কোন কর সুবিধা পায়না। তাই কর্পোরেট কর হার সুষমকরণ করা দরকার বলে আইবিএফবি বিশ্বাস করে।
বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনয়ন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য খাতভিত্তিক পর্যাপ্ত বরাদ্দ, কৃষি ও উৎপাদন খাতের ভীত মজবুত করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নজর বৃদ্ধি, আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে উপযুক্ত ব্যবসায়ের পরিবেশ সৃষ্টি ও বেসরকারী খাতকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বরাদ্দ, বাজেট বিকেন্দ্রীকরন এবং সকল ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করাই ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের বিশেষ প্রতিপাদ্য হওয়া প্রয়োজন।
আইবিএফবি মনে করে প্রস্তাবিত বাজেট যাতে যথাবাস্তবায়নযোগ্য হয়ে ওঠে সে ব্যাপারে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরীক্ষা ও পর্যালোচনার নিয়মিত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সম্পূরক বাজেট পাশকালে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরনে সংসদের কর্তৃত্ব ও ভূমিকাকে অর্থবহ করা যেতে পারে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন পর্যালোচনা ও পরীবিক্ষণের জন্য বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভূক্ত করে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন উপদেষ্টা কমিটি করা যেতে পারে। উক্ত উপদেষ্টা কমিটি জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন, পর্যালোচনা ও পরীবিক্ষণের দিকনির্দেশনা সরকার বরাবর পেশ করবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৬টি প্রস্তাব এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার একক অংকে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে যার জন্য আইবএফবি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠণ ও টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিতকল্পে ব্যাংক কমিশন গঠনের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে আস্থা সৃষ্টি নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত করা যাবে।
আইবিএফবির সভাপতির বক্তব্য শেষে প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন সভাপতি এবং রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ডিরেক্টর এবং প্রাক্তন সচিব ড: মুজিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। অন্যদের মধ্যে রানার গ্রুপের ডিরেক্টর এবং আইবিএফবির ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলী দ্বীন, কৃষিবীদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আইবিএফবির ডিরেক্টর মো: আলী আফজাল, আইবিএফবির ডিরেক্টর মো: ফখরুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ-বাণিজ্য পাতার আরো খবর

Developed by orangebd