ঢাকা : মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

সংবাদ শিরোনাম :

  • পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি প্রায় ৯১ ভাগ : সেতুমন্ত্রী          মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হোয়াইট হাউসে যে-ই আসুক বাংলাদেশের সমস্যা নেই : মোমেন           মাস্ক পরিধান সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান          গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ১৩২০ করোনা রোগী, মৃত্যুবরণ ১৮ জন          ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও পদ্মা ছাড়া সব নদ ও নদীর পানি কমছে           শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ফের বাড়লো          ২০২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার হয়েছে ৫.২৪ শতাংশ : বিবিএস          ভ্যাট পরিশোধ করা যাবে অনলাইনে
printer
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:২০:১৭আপডেট : ০১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:২১:১৮
‘দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে পারলে সুন্দর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে’
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী, কার্যনির্বাহী সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ

 

মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী, একজন বিশিষ্ট ব্যাংকার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, কাকরাইল শাখা, ঢাকা, এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং শাখা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের  কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। জনাব কায়কোবাদ ১৯৭২ সালে ২৬ আগস্ট চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম আলহাজ খায়ের আহমদ এবং মায়ের নাম মরহুমা মমতাজ বেগম। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং ৩ সন্তানের গর্বিত জনক। তার সহধর্মিনী মোসা. রোকেয়া বেগম লাকী। তার দু’পুত্র কামরুল হাসান সৌরভ ও ইমরুল হাসান সজিব; একমাত্র কন্যা নুসরাত সুলতানা জয়া। সামাজিক দায়বদ্ধতায় তিনি সাতকানিয়ার দুস্থ ও গৃহহীন মানুষকে আর্থিক ও জনহিতকর কাজে সহযোগিতা প্রদান, পুরানগড় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে স্থাপিত মসজিদ/মক্তব/মন্দিরে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান, সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান, সাতকানিয়ার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ ইত্যাদি উন্নয়নে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি পুরানগড় নবরুন মৈত্রী সংঘের প্রকাশনা সম্পাদক, পুরানগড় স্টুডেন্ট ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও এপেক্স ক্লাব অব গুলশান-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকা শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক, সাতকানিয়া লোহাগাড়া সমিতি, ঢাকা নির্বাহী সদস্য, চট্টগ্রাম যুব ফোরাম সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি সদস্য, দক্ষিণ চট্টগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটি যুগ্ম সচিব, কেরানীহাট মা-শিশু জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান, চাঁদের হাট, পুরানগড় (জাতীয় শিশু-কিশোর ও যুবকল্যাণ সংগঠন) উপদেষ্টা। তিনি রাজনীতিতে ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, পুরানগড়, শাহ্ সরফুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় শাখা সভাপতি, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, পুরানগড় ইউনিয়ন শাখা সাধারন সম্পাদক, ১৯৯০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, পুরানগড় ইউনিয়ন শাখা সভাপতি, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সাতকানিয়া থানা শাখা সহ-সভাপতি, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম জেলা (দক্ষিণ) শাখা যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, ১৯৮৭ থেকে‘দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে পারলে সুন্দর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে’
১৯৯০ সাল পর্যন্ত শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘ (সাতকানিয়া থানা সংঘ) শাখা সাধারণ সম্পাদক, ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ সাতকানিয়া থানা শাখা সদস্য, ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম জেলা (দক্ষিণ) শাখা সদস্য, ২০০৫ থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ পুরানগড় ইউনিয়ন শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১১ থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি পুরাণগড় শাহ সরফুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির ২০১৫-২০১৭ সভাপতি ছিলেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন- সিংগাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, নেপাল এবং পবিত্র হজ ও ওমরাহ্ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব ভ্রমণ করেন। রাজনীতির সাথে তার সম্পৃক্ততা ছাত্র জীবন থেকেই। চাকুরির পাশাপাশি তিনি রাজনীতিও করে যাচ্ছেন নিয়মিতভাবে। তিনি উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ^াসী। জনাব কায়কোবাদ ওসমানী, সম্প্রতি টাইমওয়াচ প্রতিনিধির কাছে দেশের রাজনীতি ও ব্যাংকিং বিষয় নিয়ে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। তার দেওয়া স্বাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদ
টাইমওয়াচ : শুরুতেই আপনার রাজনীতিতে প্রবেশের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাইছি।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : স্কুল জীবন থেকেই আমি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। পুরাণগড় শাহ সরফুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে আমার রাজনীতির হাতেখড়ি এবং উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমি ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। এরই ধারাবাহিকতায় আমি পুরানগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতি নির্বাচিত হই। পরবর্তীতে আমি সাতকানিয়া থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। এরপর উচ্চ শিক্ষার সুবাদে আমি ঢাকায় আসি। শিক্ষা জীবন শেষে আমি একটি বেসরকারী ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করি এবং এর পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও নিজেকে সম্পৃক্ত রাখি। বর্তমানে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত এবং পাশাপাশি দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড কাকরাইল শাখার ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছি।
টাইমওয়াচ : চাকুরি এবং রাজনীতি একই সঙ্গে কীভাবে করছেন ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : চাকুরি করার পাশাপাশি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকতে আমার জন্যে কোনো ধরনের সমস্যা হয় না। কারণ আমি অফিস টাইমের বাইরে রাজনীতিতে সময় দেই। একজন রাজনীতিবিদ ২৪ ঘন্টা রাজনীতি করেন না। প্রত্যেকেই রাজনীতির জন্য নির্দিষ্ট সময় বের করে রাজনীতি করেন। ‘দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে পারলে সুন্দর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে’
মানুষ চাকুরি করে বাকী সময় ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করে। আমি ব্যক্তিগত সময় নিজের জন্য ব্যয় না করে রাজনীতিতে ব্যয় করি এবং জনগনের সুখে দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি।
টাইমওয়াচ : আপনি রাজনীতি করছেন এবং অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ অর্থাৎ ব্যাংকে কর্মরত; এতে কোন সমস্যা হচ্ছে কী না ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : আমি মনে করি, যদি সত্যিকারের আদর্শের রাজনীতি কেউ করে তাহলে যে কোন কর্মে থেকে তিনি রাজনীতি করতে পারবেন। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। যারা উন্নয়নের রাজনীতি করে সমাজে  প্রতিষ্ঠিত হয় তারা কখনো খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত হতে পারে না। আমি আদর্শের রাজনীতি করি। এখন পর্যন্ত খারাপ কোন বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হইনি। আমার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার ২৩ বছর। সুদীর্ঘ এই ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত থেকেও রাজনীতিতে আল্লাহর রহমতে আমি কোনো নেগেটিভ বিষয় বা অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত হইনি। যারফলে সফলতার সঙ্গে আমি জনগনের দোয়ায় আজকে এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি।
টাইমওয়াচ : রাজনীতি ও আপনার কর্মময় জীবন বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন কি ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : রাজনীতিতে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি আগেও বলেছি, ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে আমি জেনারেল ব্যাংকিং, ফরেইন এক্সচেঞ্জ, এক্সপোর্ট, ইমপোর্ট, ক্রেডিট এবং বর্তমানে ম্যানেজার ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিযুক্ত আছি। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে আমি প্রিমিয়ার ব্যাংকে যোগদান করি। তখন এই শাখার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। আমি ২০১৮ সালে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাই। প্রতিবছর আমাদের ব্যাংকে প্রফিট, ডিপোজিট, অ্যাডভান্স প্রভৃতি বিষয়ে টার্গেট দেওয়া থাকে। এক্ষেত্রে আমি সব টার্গেট ফিলাপ করে গত বছর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। আমি কাকরাইল ব্রাঞ্চে যখন যোগদান করি তখন এই শাখার ডিপোজিট ছিল ১শ কোটি টাকা। এখন ডিপোজিট আছে সাড়ে ৩শ কোটি টাকা। প্রফিট ছিল প্রতি মাসে ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা। আমি বর্তমানে প্রতি মাসে লাভ করি ১ কোটি ৬০/৭০ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে আমাকে টার্গেট দিয়েছিল ৮ কোটি টাকা। আমি টার্গেট পূরণ করে লাভ করেছি ১০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে আমাকে লাভের টার্গেট দিয়েছে ১৬ কোটি টাকা। আমি ৩০ জুন অলরেডি ৮ কোটি টাকা পূরণ করেছি।‘দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে পারলে সুন্দর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে’
টাইমওয়াচ : আপনি ডায়নামিক নেতৃত্ব দিয়ে একটি শাখাকে উন্নতি পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আমরা এক অনুসন্ধানে দেখছি, ব্যাংক ঋণের টাকা উঠাতে না পারার ফলে ঋণখেলাপি বেড়ে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : বাংলাদেশে যেভাবে ঋণখেলাপির পরিমাণ বেড়েছে তাতে ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দূর্বলতা রয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি বিশ্বাস করি, ব্যাংক ম্যানেজার বা টপ ম্যানেজমেন্ট না চাইলে ব্যাংকে এক টাকাও ঋণ খেলাপি হতে পারে না। তাদের দূর্বলতা না থাকলে একজনও খেলাপি হতো না। সত্যিকারে ব্যাংকিং করলে এবং গ্রাহক থেকে ব্যাংক কর্মকর্তারা কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা না নিলে ব্যাংকের টাকা কখনো ঋণখেলাপি হতে পারে না।
টাইমওয়াচ : তাহলে আপনি বলছেন ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ঋণখেলাপির সঙ্গে জড়িত ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : ব্যাংকিং সেক্টরের লোকজন এসবের সঙ্গে জড়িত। আবার টপ ম্যানেজমেন্ট থেকে চাপের কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তারাও বাধ্য হয়ে লোন দেয়। আমি মনে করি, ব্যাংকের লোকজন যদি সৎ হয় তাহলে এই ধরণের ঘটনা ঘটবে না।
টাইমওয়াচ : আপনি একজন ম্যানেজার হিসেবে একটি শাখাকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে কী ধরনের কর্ম-পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : আমি ব্রাঞ্চে ম্যানেজার হিসেবে পূর্বের খারাপ লোনগুলোকে মনিটরিং করে ভালো পর্যায়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করি। নতুন লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ খবর নিয়ে লোন দেই। আমি আমার ব্রাঞ্চকে উপরে উঠানোর জন্য বিভিন্ন ধরনে নন-ফান্ডেড বিজনেস করি। এর মধ্যে রয়েছে- এলসি, গ্যরান্টিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। বর্তমান সরকার ২০২১ সালে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য সারা বাংলাদেশে যে উন্নয়ন করছে তার ছোঁয়া আমাদের ব্যাংকেও লেগেছে। যেমন- দেশের যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ হচ্ছে সে সবে ব্যাংকের কন্ট্রিবিউশন আছে। সারা দেশে যে উন্নয়ন কাজ হচ্ছে সেগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে যেমন- ব্যাংক গ্যারান্টি, ওয়ার্ক অডার, পারফরমেন্স গ্যারান্টি প্রভৃতি হচ্ছে। ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া বড় বড় প্রজেক্টগুলো সম্পন্ন হওয়া সম্ভব না। আগে ম্যানুয়াল টেন্ডার হতো এখন ইজিপির মাধ্যমে টেন্ডার হচ্ছে। এখানে নন-ফান্ডেড বিজনেস করে আমি আমার ব্যাংককে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
টাইমওয়াচ : একজন ম্যানেজার হিসেবে আপনি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : প্রধানত আমি ইজিপি ফাইন্যান্স, ওয়ার্ক অর্ডার ফাইন্যান্স, সরকারের বড় প্রকল্প যেমন- পদ্মা ব্রিজ, মেট্রোরেল লাইন, মাদার বাড়ি প্রজেক্ট, রুপপুর পারমানবিক প্রকল্প প্রভৃতিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশেষ করে সরকারের প্রকল্পগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
টাইমওয়াচ : আপনার শাখায় বর্তমানে কি পরিমাণ ঋণখেলাপি রয়েছে ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : আমার ব্রাঞ্চে টোটাল লোনের মধ্যে শতকরা ৬ শতাংশ ঋণখেলাপি আছে। আগে এর পরিমাণ আরও বেশি ছিল। আমরা বিভিন্নভাবে পরিকল্পনা করে ঋণের ঝুঁকির পরিমান কমিয়ে এনেছি।‘দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে পারলে সুন্দর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে’
টাইমওয়াচ : আপনি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। দেশে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির জন্য গণতন্ত্রের ভূমিকা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি মনে করেন বর্তমান সরকারসহ বিগত দিনের সরকারে গণতন্ত্রের মূল আদর্শ রয়েছে ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : গণতান্ত্রিক আদর্শ অবশ্যই রয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহন করেছে। কিছু দল নিজেদের মনে করেছে তারা ক্ষমতায় যেতে পারবে না। এ কারণে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন থেকে সরে গেছে। জনগণ ভোট প্রদানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছে। গণতন্ত্র চাইলে ঘরে বসে থাকলে হবে না মাঠে থাকতে হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। ঘরে বসে থাকলে কেউ ঘরে গিয়ে গণতন্ত্র পৌঁছে দিবে না।
টাইমওয়াচ : দেশের সুষ্ঠু রাজনীতির উন্নয়নে আপনার মতামত কী?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : সুষ্ঠু রাজনীতির জন্য সবাই যার যার মতামত ব্যক্ত করবে। বর্তমান সরকারের ভালো কাজগুলো বিরোধীতার খাতিরে বিরোধীতা না করে আমাদেরকে  সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে স্বীকার করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
টাইমওয়াচ : ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতত্বে আমরা বর্তমানে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে আছি। বর্তমানে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, যেভাবে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে তাতে ২০২১ সালের আগেই পূরণ হয়ে যাবে। আর উন্নত দেশ হতেও কোনো বাধা থাকবে না। দেশের দুর্নীতি এবং জঙ্গি সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে। বর্তমানে যে গুজব উঠেছে শিশুদের মাথা কেটে নেওয়া হচ্ছে; এ ধরনের গুজব সন্ত্রাস থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।  সবার আদর্শ নীতি থাকতে হবে। আমি নিজে দুর্নীতি না করলে অন্যদেরকে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে বলতে পারবো। নিজেকে আগে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমাদেরকে জিরো টলারেন্সে থাকতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো।
টাইমওয়াচ : বর্তমান সরকারকে কী আপনি ব্যবসাবান্ধব সরকার বলে মনে করেন ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : অবশ্যই, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার রাষ্ট্র নায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন ব্যবসায়ীদের। সরকার অনেকগুলো ব্যাংক এবং মিডিয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এতে অনেকেই তখন নেগেটিভ কথা বলেছিলেন। সরকার ব্যবসাবন্ধব বলেই এতো ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকের সহায়তা নিয়ে ব্যবসা করে। ব্যাংকিং সেক্টর সবচাইতে বেশি ৪৫% কর্পোরেট টেক্স সরকারকে প্রদান করেন। মিডিয়ার কারণে এখন আমরা ঘরে বসে কোথায় কি হচ্ছে মুহুর্তের মধ্যে জেনে যাচ্ছি। মিডিয়া, ব্যাংক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
টাইমওয়াচ : আপনি একজন ব্যাংকার এবং একজন রাজনীতিবিদ। আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : আমি বর্তমানে ব্যাংকে চাকরি করছি এবং পাশাপাশি রাজনীতি করছি। আমি আমার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছি। আমার ব্যাংককে আমি ভালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করি। আমি মনে করি, যাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয় সে যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে। একজন দেশ প্রেমিক লোক যদি নিজ ক্ষেত্রে স্ব-স্ব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন তাহলে অবশ্যই দেশ এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।‘দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে পারলে সুন্দর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে’
টাইমওয়াচ : আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভুমিকা প্রসঙ্গে বলেন ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ও তরুন প্রজন্মের অহংকার, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলে আমরা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ডিজিটাল সুবিধা পাচ্ছি, আজ গ্রাম শহরে পরিনত হয়েছে। এমন কি আজ তরুন প্রজন্ম সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গঠনে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আজ বিভিন্ন সেক্টরে তরুণেরা নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং সুন্দর সম্ভবনাময় বাংলাদেশ গঠনে ভুমিকা রাখছে। ভবিষ্যৎ এ তরুণেরাই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পরিকল্পনা মোতাবেক দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
টাইমওয়াচ : রাজনীতি নিয়ে আপনারস্বপ্ন কী?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : আমি জাতির পিতা  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  আদর্শের রাজনীতি করি। মনেপ্রাণে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করি এবং ধারণ ও বহন করি। আমি ব্যাংকিং ক্যারিয়ার থেকে অবসর নেওয়ার পর ফুল টাইম রাজনীতি করবো। দেশের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেব। জনগণের কল্যাণে সব সময় নিজেকে সম্পৃক্ত রাখবো এবং গরীব দুঃখী জনগনের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করবো, ইনশাল্লাহ।
টাইমওয়াচ : সুন্দর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আপনার সুচিন্তিত মতামত কী ?
মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী : আমরা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে পারলে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে এবং সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা হবে। বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd