ঢাকা : বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • দ্বীপ ও চরাঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে ইন্টারনেট          দুদকের মামলায় সম্রাটের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর          এয়ার শো’তে যোগ দিতে দুবাইয়ে প্রধানমন্ত্রী           সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : স্পিকার          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:০১:৪৮আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:০৫:০৩
চট্টগ্রাম রেঞ্জকে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি
খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার), পিপিএম, ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ

 

জনাব খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার), পিপিএম, ডিআইজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ এ কর্মরত। তিনি ব্যক্তিত্বে, রুচিবোধ, জ্ঞানে ও প্রজ্ঞায় এক অসাধারণ মননশীল সাদা মনের মানুষ। এই গুণী ব্যক্তি ১৯৬৪ সালে টাংগাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলা ঘাটান্দি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ভূঞাপুর গ্রামের পাইলট হাইস্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮১ সালে ইব্রাহিম খাঁ সরকারী কলেজ, ভূঞাপুর থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে শেরে বাংলা কৃষি কলেজ বর্তমানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হয়ে ১ম শ্রেণিতে বিএসসি এগ্রিকালচারাল অনার্স পাশ করেন। এরপর বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন। তিনি নবম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী কমিশনার পদে নির্বাচিত হন। তিনি আবার দশম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পুনরায় সহকারী কমিশনার, প্রশাসন ক্যাডারে ১ম স্থান অধিকার করেন। কিন্তু তাঁর পুলিশ ক্যাডারের প্রতি আগ্রহ বেশী থাকায় পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত অবস্থায় ১২তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ ক্যাডারে ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি যোগদান করেন । তাঁর পিতা-মাতাও প্রশাসন ক্যাডারের চেয়ে পুলিশ ক্যাডারকে পছন্দ করতেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৬ মাস ও সারদা পুলিশ একাডেমিতে ৯ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে ফরিদপুর জেলায় প্রথম প্রবেশনার অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে এএসপি হিসেবে বগুড়া এপিবিএন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, খাগড়াছড়ি সদর সার্কেল, ডিএমপি‘তে কর্মরত ছিলেন।  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত ছিলেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এ্যাংগোলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ২০০৩ সালে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এআইজি হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার হিসেবে ঠাকুরগাঁও, কিশোরগঞ্জ, ঝালকাঠি, ময়মনসিংহ এপিবিএন, জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। এরপর এসএস (এসপি) সিটিএসবিতে যোগদান করেন। অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে যুগ্ম কমিশনার, ডিএমপি এবং অতিরিক্ত ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব পালন করেন। ডিআইজি পদে পদোন্নতিচট্টগ্রাম রেঞ্জকে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি
হয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ডিএমপিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে যোগদান করেন। তিনি দীর্ঘ ২৯ বছর চাকুরি জীবনের সুনামের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত কারণে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। চাকুরি জীবনে গরীব-অসহায় জনগণকে পুলিশি সহায়তা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘যতদিন পুলিশে কর্মরত থাকব ততদিন গরিব-অসহায় সমাজের অবহেলিত মানুষের সেবা করা ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা আমার আদর্শ’। ব্যক্তি জীবনে জনাব খন্দকার গোলাম ফারুক বিবাহিত এবং ৩ কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর কন্যা সন্তানদের নাম ফাবলিহা খন্দকার, নাবলিহা খন্দকার, তাসনিয়াহ খন্দকার। বর্তমানে তারা শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করছে। খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার), পিপিএম, ডিআইজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ শৈশবে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠেন। তাঁর বাবার নাম খন্দকার হায়দার আলী এবং মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। তাঁর বাবা একজন কৃষক এবং মা ফাতেমা বেগম ছিলেন গৃহিণী। তিনি ছোট বেলা থেকে বাবাকে কৃষিকাজে সহায়তা করে লেখাপড়া করেছেন। বাবা কৃষক হওয়া সত্ত্বেও স্বপ্ন ছিল ছেলে সুশিক্ষিত হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে। যার ফলে শত প্রতিকুলতার মধ্যেও মা-বাবা সব সময় লেখাপড়ায় উৎসাহ দিতেন। ছেলেবেলায় তাঁর অন্যান্য আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবরা প্রাইভেট শিক্ষক রেখে লেখাপড়া করলেও তিনি নিজ চেষ্টায় এবং স্কুল শিক্ষকদের সহায়তায় অধ্যায়ন করেছেন। সকল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণও হয়েছেন। কিশোর বয়সের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কিশোর বয়সের একটি ঘটনা এখনো আমার মনে দাগ কাটে, ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু টাঙ্গাইল এসেছিলেন। তখন আমি ৫ম শ্রেণিতে পড়তাম। জাতির পিতাকে দেখার জন্য স্কুলের সহপাঠী বন্ধুদের সাথে ট্রাকে করে জনসভায় গিয়েছিলাম। কাঁদা পানি মাড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হল। লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম হয়েছিল ওই জনসভায়। জীবনে একবারই মাত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে দেখলাম। এই স্মৃতিটা আমার জীবনে বার বার মনে পড়ে।’ এইচএসসি পাশ করার পর তার ছোট চাচা তাঁকে বাংলাদেশ সেনাবহিনীতে কমিশন পদে চাকরি করার জন্য বলেন কিন্তু তাঁর মা-বাবা তাতে রাজি না হয়ে আরো চট্টগ্রাম রেঞ্জকে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি
উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বাবার এক চাচা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কে কে হোসেন। তাঁর বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে তাঁর চাচার মতো পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করবে। পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে চাকুরিকালীন তার পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তখন তিনি মা-বাবার এই স্বপ্ন থেকে একটু দূরে সরে আসেন। কারণ তাঁর কাছে মনে হয়েছিল এই সমাজ ব্যবস্থায় গবেষণা বা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার চেয়ে পুলিশ পেশায় চাকুরি করলে সমাজের অসহায়, গরীব মানুষের সরাসরি সেবা করতে পারবেন। তাঁর পিতা-মাতার এই অফুরন্ত প্রয়াসের মর্যাদা তিনি রেখেছেন। তিনি মনে করেন তাঁর পিতা-মাতা ও গুরুজনদের দোয়ায় তিনি আজ কর্মময় জীবন ও সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। জনাব খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার) সম্প্রতি টাইমওয়াচ প্রতিনিধিকে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিপ্লব বিজয়
 
টাইমওয়াচ : আপনার আওতাধীন এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলবেন কী?
খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার), পিপিএম : চট্টগ্রাম রেঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনা নেই; ২/৩ টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে এতে উদ্ধিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তা নিয়ে জনমনে নেতিবাচক কোনো ধারনা নেই। জনমনে স্বস্তি আছে। চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি পুলিশ সদস্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।চট্টগ্রাম রেঞ্জকে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি
 
টাইমওয়াচ : আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে আপনার  উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাই?
খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার), পিপিএম : আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন একটি আপেক্ষিক ও চলামান প্রক্রিয়া। এটা সবসময় আরো ভালো করার সুযোগ থেকে যায়। সমাজে অপরাধ সংঘটনের জন্য কয়েকটি ফ্যাক্টর কাজ করছে। শুধুমাত্র পুলিশ বা পুলিশী ব্যবস্থা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শতভাগ ঠিক রাখা সম্ভব না; যদি সামাজিক অন্যান্য সেক্টর/প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে কাজ না করে। তা সত্ত্বেও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখার জন্য পুলিশের বিশেষ ভূমিকা বিদ্যমান। সেহেতু আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে একটি স্থায়ী রূপ দিতে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য গতানুগতিক ও আধুনিক পদ্ধতির সমন্বয় করে আমরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে যাচ্ছি।  মামলা হলে আসামী গ্রেফতার করে বিচারের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচার কার্য দ্রুত সমাপনের জন্য আসামীদের গ্রেফতারসহ পুলিশের তরফ থেকে যা করার দরকার তা করা হচ্ছে। পেশাদার অপরাধীরা যাতে অপরাধ করতে না পারে সেই লক্ষ্যে তাদের গতিবিধির উপর সবসময় নজর রাখাসহ নিরারণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাছাড়া অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করা এবং একই সাথে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং দমনে জনগণকে সম্পৃক্ত করি যাকে আমরা প্রোএক্টিভ পুলিশিং বলি। এই পদ্ধতিতে পুরো রেঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং-এর মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রী ও জনগণকে সম্পৃক্ত করে অপরাধীদের চিহ্নিত করত: গ্রেফতারের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, চাঁদাবাজী, জঙ্গি, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান, ব্লকরেইড, চেকপোস্টসহ প্রোএক্টিভ পুলিশিং অব্যাহত থাকায় রেঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ভালো প্রভাব পড়েছে।চট্টগ্রাম রেঞ্জকে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি
 
টাইমওয়াচ : জামিন পেয়ে আসামিরা পুনরায় অপরাধে জড়ায় এই ব্যাপারে আপনাদের কী করণীয়?
খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার), পিপিএম : জামিন পাওয়ার অধিকার সবারই আছে। জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। তবে পেশাদার এবং দাগী অপরাধীরা জামিনে বের হয়ে পুনরায় যেনো অপরাধে জড়াতে না পারে; সে বিষয়ে আমাদের বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে।
 
টাইমওয়াচ : জঙ্গি দমনে আপনার মন্তব্য কী?
খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার), পিপিএম : বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত সফল ও সাহসিকতার সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করেছে। বিগত ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে দেশি এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কারণে তথাকথিত আইএস-এর নামে জেএমবি, আনসার উল্লাহ বাংলা টীম বেশ কয়েকটি দূর্ঘটনা ঘটিয়েছিল তার মধ্যে হলি আর্টিজান-এর হামলা অন্যতম। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের আহ্বানে জনগণ ও পুলিশ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় ফলে বর্তমানে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আছে। যেহেতু জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা সেহেতু আইন-শৃঙ্খলা দমনে ও জঙ্গি দমনে পুলিশ ও জনগণকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। অত্র রেঞ্জের পুলিশ সদস্য ও জনগণ এ ব্যাপারে সচেষ্ট আছে।
 
টাইমওয়াচ : রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে; এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?
খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার), পিপিএম : গত ২৫ আগস্ট ২০১৭ খ্রি: এর পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে আগত প্রায় ১১,৬৬,৩৭৬ জন রোহিঙ্গা বর্তমানে টেকনাফ ও উখিয়া থানাধীন পাহাড়ী ও সমতল এলাকায় ইউএনএইচসিআর কর্তৃক তৈরিকৃত বিভিন্ন শেডে ৩০ টি ক্যাম্পে অবস্থান করছে। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী একটি নির্দিষ্ট জায়গায় অবস্থান করার কারণে তারা ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ক্যাম্প এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজেরা নিজেদের মধ্যে দাঙ্গা ও মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছে। তাছাড়া মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণ, ধর্ষণ, খুন ও ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জকে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি
এছাড়া রোহিঙ্গারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মিয়ানমার হতে ইয়াবা এনে তাদের ক্যাম্পে মজুদ করে তা চোরাকারবারীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করার কাজে লিপ্ত রয়েছে। এ সমস্ত অপরাধীদের প্রত্যেককেই চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা শরণার্থীকেন্দ্রিক বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং ভবিষ্যতে যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট।
 
টাইমওয়াচ : মাদক চোরাচালান কমছে না কেন?
খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার), পিপিএম : পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার ফলে মাদক চোরাচালান ও মাদক সেবনকারীর সংখ্যা অনেক কমেছে। তবে মাদকের চোরাচালান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হলে দেশে মাদকের চাহিদা তথা মাদকসেবী/ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমাতে হবে। এক্ষেত্রে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মক্তবে মাদকের কুফল সংক্রান্তে পাঠদান/বক্তব্য প্রদান ও জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজে নতুন করে মাদকসেবী ও ব্যবহারকারী সৃষ্টি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। গত এক বছরে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে রেঞ্জাধীন ১১টি জেলায় ২১,২৪৩ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ১০২ জন আতœসমর্পন করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ১৫,০৬২টি মামলা রুজু হয়েছে। উক্ত সময়ে ১,৪৫,৫৮,৪৬৩ পিস ইয়াবা, ১৩,৯২৩.২৫ কেজি গাজা, ৪১,৯৪৭.৯ লিটার চোলাই মদ, ২৫,১৩৮ বোতল ফেন্সিডিল, ১০,৯৫৬টি বিয়ার (ক্যান), ১৩ বোতল কোরেক্স, ২৫০২ বোতল স্কপ, ১৬৫৭ বোতল বিদেশী মদ এবং ৫৬৬ বোতল হুইস্কি উদ্ধার করা হয়েছে।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd