ঢাকা : বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • দ্বীপ ও চরাঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে ইন্টারনেট          দুদকের মামলায় সম্রাটের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর          এয়ার শো’তে যোগ দিতে দুবাইয়ে প্রধানমন্ত্রী           সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : স্পিকার          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৫:২৮:৩৭আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:২৩:১১
হজ্ব নিয়ে আমার সামান্য অভিজ্ঞতা আমার জীবনের পরম তৃপ্তির ভ্রমণ
বদর উদ্দিন আহমদ

 

আমি ইতিপূর্বে দেশের বাহিরে বশে কয়েকটি দেশে ভ্রমণ করেছি ঠিকই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশে যাইনি। অনেক আগে থেকেই হজ্ব পালন করার জন্য মনোস্থির করি। একসাথে হজ্বের খরচাদি সহ অন্যান্য বিষয় সুযোগ না হওয়ায় নিজেকে অনেক অপারাধী মনে হতো। একমনে আল্লাহর নিকট সব সময় দোয়া করতাম যে, আল্লাহ আমাকে আপনার পবিত্র কাবা ঘর তওয়াফ করার তওফিক দান করুন। আল্লাহর রহমতে ২০১৮ সালে প্রাথমিক নিবন্ধন করি এবং আল্লাহর দরবারে সর্বক্ষন দোয়া করতে থাকি, আল্লাহ আমাকে হজ্ব পালন করার জন্য সাহায্য দান করুন। এখানে বলে রাখা ভালো আমি যখন প্রাথমিক নিবন্ধন করি, তার পর আমার অনেক শুভাকাঙ্খিসহ অনেকে আমাকে নেগেটিভ কথাবার্তা বলেন, এবং আমাকে মানষিক ভাবে দুর্বল করতে থাকেন। এব্যাপারে তাদের একছত্রভাবে দোষ দেয়া যায়না, কারন ইতিপূর্বে হজ্ব নিয়ে আমাদের দেশে অনেক অপ্রীতিকর অবস্থার কথা আমরা জানি। তাই আমার সেই সকল শুভাকাঙ্খিরা আমার হজ্ব এজেন্ট সমন্ধে অনেক খোঁজ খবর নিতে বলেন। আমার সেসকল শুভাকাঙ্খিদের কথায় আমি কখনও মনোবল হারাইনি। কারন আমি যে এজেন্ট এর মাধ্যমে নিবন্ধন করেছিলাম। সেই এজেন্ট এর মালিককে ভালো করে না জানলেও, যার মাধ্যমে নিবন্ধন করেছি, তিনি আমার পূর্ব পরিচিত ছোট ভাই, আমাদের সাথে সাংবাদিকতা করে, তারই বড় ভাইয়ের এজন্ট তার নাম (এনামুল হক)। তাই আমার মধ্যে তেমন কোন অবিশ্বাস কাজ করে নাই। যাই হউক আস্তে আস্তে আমার হজ্বের সময় যত ঘনিয়ে আসতে লাগলো, আল্লাহ আমাকে আরো কঠিন পরিক্ষার মধ্যে ফেললেন। গত মার্চ (২০১৯) মাস থেকে নানা বিধ অসুখে আক্রান্ত হয়ে, প্রথমে এপ্রিলে ভারতের হায়দ্রাবাদের এ,আই,জি হাসপালে প্রথম ছোট একটি অপারেশন হলো। দেশে যেদিন এলাম, ঠিক তার পরের দিন আবার অসুস্থ হয়ে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে দিত্বীয় দফায় অপরেশন হলো। সর্বশেষ জুন মাসে অর্থাৎ হজ্বে ঠিক দুইমাস আগে আবার স্কয়ার হাসপাতালে আমার গলব্লাডারটি ফেলে দিতে হল। তবু আমি দমে যাইনি,আমি শুধু আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছি, আল্লাহ আমাকে যে করেই হোক এবারের হজ¦ পালন করার মতো তওফিক দান করুন। আল্লাহর মেহেরবানীতে আমাকে,আমার স্ত্রী সহ এবারের হজ্ব পালন করতে সাহায্য করেছেন। এখানে উলেখ করতে হয় যে আল্লাহ সাহায্য করলে, আপনার ওপরে যতই বিপদ আসুক না কেনো, আল্লাহ হেফাজতের মালিক। তার কাছে কোন কিছুরই অভাব নেই। শুধু একমনে আল্লাহর কাছেই যাহায্য চাইতে হবে। তাহলেই তিনি আমাদেরকে সাহায্য করতে পারেন, অন্য কেহ নয়। আমার জীবনে যতকিছু দেখেছি ও শিখেছি, এই পবিত্র হজ্বে আমার জীবনের সমস্ত অতৃপ্ত বাসনাগুলো আল্লাহ আমাকে তৃপ্ত করেছেন। হজ্বে গিয়েও আমরা স্বামী-স্ত্রী একই রুমে মক্কা এবং মদিনায় ছিলাম।
সেই সাথে আমাদের খাবারের দায়িত্বে ছিলেন, তারেক নামের এক ব্যক্তি, তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে মক্কাতে নিজ গৃহে রান্না করে আমাদের জন্য নিজে খাবার দিয়ে যেতেন। তাই আমাদের খাবারেও তেমন কোন সমস্যা হয়নি। পরিশেষে মক্কা-মদিনায় ইসলামের ঐতিহাসিক জায়গা পরিদর্শন। যাকে স্থানীয় ভাবে জিয়ারা নামে বলে থাকেন। সেসব স্থানেও এনাম ভাই সহ, সাঈদ ভাই আরো অন্যান্য লোকদের সহযোগিতায় ভালো ভাবেই দেখতে পেরেছি। যেমন, আমাদের প্রিয় নবীজীর জন্মস্থান, ইসলামীক লাইব্রেরী,আবু জাহেলের বাড়ী, জান্নাতুল মুয়াল্লা কবরস্থান,জীনের মসজিদ,মসজিদে কোবা, মসজিদে কেবলাতাইন,জান্নাতুল বাকী হজ্ব নিয়ে আমার সামান্য অভিজ্ঞতা আমার জীবনের পরম তৃপ্তির ভ্রমণ
কবরস্থানসহ অনেক ইসলামী দর্শনীয়স্থান সমূহ। হজ্বের নিবন্ধনের আগে ভালো করে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন হজ্ব এজেন্ট। কারন, শুধু বিজ্ঞাপনের উপর আকৃষ্ট না হয়ে, মান যাচাই করা প্রয়োজন। সেদিক থেকে আল্লাহ আমাদের সহায় ছিলেন। আমি সে জায়গাটিতেও ভালো একটি এজেন্ট ও ভালো কিছু গাইড এবং মোয়াল্লেম পেয়েছিলাম। সবই আল্লাহর রহমত ছিলো আমার জন্য। আল্লাহর নেয়ামত আমি লিখে শেষ করতে পারবোনা।
 
আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া তিনি আমাকে সুস্থ অবস্থায় হজ্ব পালন করার মতো তওফিক দান করেছেন। আমীন। সব শেষে আমি বলবো আমাদের মধ্যে যাদের আল্লাহ সামর্থ দিয়েছেন, তারা কালবিলম্ব না করে অতি দ্রুত হজ্ব পালন করুন।  কারন কখনও আপনি সব গুছিয়ে হজ্ব পালন করতে পারবেননা। অনেকে হজ্বকে অনেক জটিল বানিয়ে ফেলেন, আসলে তেমন কঠিন কোন ব্যপারনা। সহজ ও সাবলীল ভাবে দেখেন অনেক সহজ হয়ে যাবে। দেখবেন পৃথিবীর সমস্ত সুখ-শান্তি আল্লাহর পথেই আছে। আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন। আমিন। হজ্ব সংক্রান্ত অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু লেখা বেশী বড় করা যাবেনা, তাই এই ব্যাপারে অতৃপ্তই রয়ে গেলো। আল্লাহ চাহেত, হায়াতে বেচে থাকলে আবার লেখার চেষ্টা করবো, ইন্শাআল্লাহ।
 
হজ্বের শর্তাদি
হজ্বে গমনের জন্য মুসলমানদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ্য।
 
নারীদের জন্য মাহরাম
ইসলামী সূত্রানুযায়ী আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ্য ছাড়াও নারীদের জন্য তৃতীয় একটি শর্তের উল্লেখ করা হয়, সেটি হলো হজে যাওয়ার জন্য নারীকে স্বীয় স্বামী অথবা মাহরাম পরুষকে সঙ্গে নিতে হয়। যাদের মাহরাম নেই তাদের হজে যাওয়ার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই। মাহরাম ব্যতীত হজের জন্য নারীদের সৌদি আরবের ভিসা প্রদান করা হয় না। বলা হয়, যদি মাহরাম ব্যতীত হজ করতে যায় তাহলে হজ হয়ে যাবে, কিন্তু মাহরাম ব্যতীত সফরের জন্য গুনাহগার বা পাপী হবে।হজ্ব নিয়ে আমার সামান্য অভিজ্ঞতা আমার জীবনের পরম তৃপ্তির ভ্রমণ
 
হজ্বের রীতি-নীতি
ইহরাম : হজ্বকালীন সার্বিক অবস্থাকে বলা হয় ইহরাম যার প্রধান চিহ্ন হলো দুই খন্ড সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিধান।
ইহরাম-পরিধানের নির্দ্দিষ্ট স্থানকে বলা হয় মিকাত। হজ্বের সময় তালবিয়াহ নামক দোয়া পাঠ করা হয়।
এটি নিম্নরূপ- তালবিয়াহ হলো- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা-শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়া নিয়ামাতা লাকা ওয়াল মুলকা লা-শারীকা লাক। এর অর্থ হলো, হে আল্লহ, আমি হাজির, আমি হাজির। আপনার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির আছি। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই এবং সমগ্র বিশ্বজাহান আপনার। আপনার কোনো শরীক নেই।
 
ইসলামে হজ্জের গুরুত্ব
আবু হোরায়রা বর্ণিত এক হাদিসে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ্ব করে এবং অশ্লীল ও গোনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে হজ থেকে এমতাবস্তায় ফিরে আসে যেন আজই মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিস্ত হলো। অর্থাৎ জন্মের পর শিশু যেমন নিষ্পাপ থাকে, সেও তদ্রুপ হয়ে যায়। আরেকটি হাদিসে তিনি বলেছেন, "শয়তান আরাফার দিন হতে অধিক লজ্জিত ও অপদস্থ আর কোনো দিন হয়না, কেননা ওই দিন আল্লাহতালা স্বীয় বান্দার প্রতি অগণিত রহমত বর্ষণ করেন ও অসংখ্য কবিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি আরো বলেছেন, ‘‘একটি বিশুদ্ধ ও মকবুল হজ সমগ্র পৃথিবী ও পৃথিবীর যাবতীয় বস্তুর চেয়েও উত্তম। বেহেস্ত ব্যতীত অন্য কোনো বস্তু তার প্রতিদান হতে পারে না।"
অর্থ: ইসলামের বর্ণনা অনুসারে হজ্ব একটি আবশ্যকীয় বা ফরজ উপাসনা। এটি ইসলামের ৫ম স্তম্ভ। হজ্ব শব্দের আভিধানিক অর্থ "ইচ্ছা" বা "সংকল্প" করা। আচার ও আদব-কায়দার বিবেচনায় হজ্ব হলো বৎসরের নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট পোশাকে কয়েকটি স্থানে অবস্থান বা ওকুফ, ক্বাবা শরীফের তাওয়াফ, পশু কোরবানী, নির্দ্দিষ্ট স্থানে পরপর ৩ দিন কংকর নিক্ষেপ এবং সাফা-মারওয়া টিলাদ্বয়ের মধ্যে হাঁটা।
 
হজ্বের ঐতিহাসিক পটভূমি
কাবাঘরে সর্বপ্রথম হজ আদায় করেন ইসলামের নবী আদম ; তারপর নূহ সহ অন্য ইসলামের অন্যান্য নবী-রাসূল এ দায়িত্ব পালন করেন। ইব্রাহিম (আ:) এর সময় থেকে হজ্ব ফরজ বা আবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত করা হয়। হিজরি সনের ১২তম মাস হলো জিলহজ্জ মাস। ইসলামের বর্ণনা অনুসারে স্রষ্টা ইব্রাহিম (আঃ) কে হজ্ব ফরজ হওয়ার কথা ঘোষণা করার জন্য নির্দেশ দেন।হজ্ব নিয়ে আমার সামান্য অভিজ্ঞতা আমার জীবনের পরম তৃপ্তির ভ্রমণ
কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, এ আদেশের পর ইব্রাহিম (আঃ)আবু কোবাইস পাহাড়ে আরোহণ করে দুই কানে অঙ্গুলি রেখে ডানে-বামে এবং পূর্ব-পশ্চিমে মুখ ফিরিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, লোক সব, তোমাদের পালনকর্তা নিজের গৃহ নির্মাণ করেছেন এবং তোমাদের ওপর এই গৃহের হজ্ব ফরজ করেছেন। তোমরা সবাই পালনকর্তার আদেশ পালন করো। এই বর্ণনায় আরো উল্লেখ আছে যে ইব্রাহিম (আঃ)এর ঘোষণা স্রষ্টার পক্ষ থেকে বিশ্বের সবখানে পৌঁছে দেয়া হয়।
হজ্বের বিভিন্ন আচার-কায়দা ইব্রাহিম (আঃ) এর জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন ইসলামিক বর্ণনায় উল্লেখ আছে ইব্রাহিম (আঃ) স্রষ্টার নির্দেশে তাঁর স্ত্রী হাজেরাকে নির্জন মরুভূমিতে রেখে এসেছিলেন। সেখানে, কাবা শরীফের অদূরে, হাজেরা নবজাত শিশু ইসমাইলকে নিয়ে পানির অভাবে পড়েছিলেন। সাহায্যের জন্য কাউকে না পেয়ে তিনি পানির খোঁজে সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন। এই ঘটনাকে স্মরন করেই হজ্বের সময় মুসলিমদের জন্য সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে হাঁটার নিয়ম রয়েছে।
ইসলামিক বর্ণনায় উল্লেখ আছে স্রষ্টা বেহেশত বা স্বর্গ থেকে আদম ও হাওয়াকে যখন পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন, এতে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে উভয়ে আরাফাত ময়দানে এসে মিলিত হন। এই ঘটনার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হজ্বের একটি অংশ হিসেবে মুসলিমরা আরাফাতের ময়দানে এসে উপস্খিত হয়ে স্রষ্টার কাছে কান্নাকাটি করে ইবাদতে মগ্ন হন।
 
 
বিদায় হজ্জ
মক্কা বিজয়-এর দ্বিতীয় বছরে ইসলামের নবী হযরত মুহম্মাদ (সঃ)তাঁর জীবনের সর্বশেষ হজ্ব পালন করেন। এটি বিদায় হজ্ব নামে মুসলিমদের কাছে পরিচিত। মক্কা বিজয়ের পরবর্তী বছরে ইসলামের প্রথম খলিফা আবুবকর (রাঃ) এর নেতৃত্বে হজ্ব সম্পাদিত হয়। পরবর্তী বৎসরে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মাদ (সঃ) হজ্বের নেতৃত্ব দান করেন। বিদায় হজ্বের মাধ্যমে তিনি মুসলিমদের জন্য আদর্শরূপে হজ্ব পালনের নিয়মাবলী উল্লেখ এবং প্রদর্শন করেন। এই হজ্বের সময় তিনি আরাফাতের ময়দানে যে ভাষণ প্রদান করেন তা মুসলিমদের কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
 
 
শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে কঙ্কর নিক্ষেপ
হজের অন্যতম বিধান হলো- শয়তানের প্রতীকী ৩টি স্তম্ভে কঙ্কর নিক্ষেপ করা। মাথার চুল মুন্ডন অথবা কাটার পূর্বে পাথর নিক্ষেপ করতে হয়, এটা ১০ জিলহজের দিনের ওয়াজিব আমল।
পবিত্র এই হজের অন্যতম ওয়াজিব বিধান হলো জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা। শয়তানকে উদ্দেশ করে হজযাত্রীরা তিনটি স্থানে কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। যদিও এই তিনটি স্থানে শয়তান বিদ্যমান নেই, কিন্তু হজযাত্রীদের কঙ্কর নিক্ষেপণ দেখে শয়তান অপমানে জ্বলতে থাকে।
 
 
কঙ্কর নিক্ষেপের ইতিহাস
মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে হজরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর প্রাণপ্রিয় শিশুপুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-কে নিয়ে চললেন কোরবানি করতে। শয়তান ভাবল, যদি হজরত ইব্রাহিম (আ.) এই পরীক্ষায় সফল হয়ে যান, তাহলে আল্লাহর আরো নিকটতম বান্দা হিসেবে পরিগণিত হবেন। তাই সে কোরবানির মহৎ উদ্দেশ্য পন্ড করার জন্য পিতা-পুত্র উভয়কে কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। তখন হজরত ইব্রাহিম (আ.) কঙ্কর নিক্ষেপ করে ওই তিনটি স্থানেই শয়তানকে বিতাড়ন করেছিলেন। স্মৃতিবিজড়িত এই ঘটনাকে মুসলিম হৃদয়ে চিরজাগ্রত রাখার জন্য কঙ্কর নিক্ষেপণকে হজ্বের বিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।হজ্ব নিয়ে আমার সামান্য অভিজ্ঞতা আমার জীবনের পরম তৃপ্তির ভ্রমণ
 
 
কঙ্কর নিক্ষেপের পদ্ধতি
হজযাত্রীদের ৯ জিলহজ হজের মূল বিধান আরাফাতের ময়দানে সারা দিন অবস্থান করে মুজদালিফায় যেতে হয়। রাতটা মুজদালিফার খোলা আকাশের নিচে ইবাদত ও জিকির করে কাটিয়ে ফজরের পর শয়তানকে মারার জন্য প্রত্যেক হাজিকে ছোট আকারের পাথর সংগ্রহ করে মিনায় যেতে হয়। জামারাতুল আকাবা মক্কার দিকে মসজিদুল খাইফের সর্ব নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। একে জামারাতুল উখরা ও কুবরাও বলা হয়। ১০জিলহজ এখানে তাকবির বলতে বলতে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতে হয়। কাবাঘর বাঁ দিকে ও মিনা ডান দিকে রেখে দাঁড়ানো সুন্নত। অন্য দুই জামারায় এদিন কঙ্কর নিক্ষেপ করতে নেই। ১১ তারিখে তিন জামারায় (প্রথমে ছোট, এরপর মধ্যম এবং সব শেষে বড় জামারায়) ৭টি কওে মোট ২১টি পাথর মারতে হয়। ১২ তারিখেও অনুরূপ তিন শয়তানকে ২১টি পাথর মারতে হয়। তিন দিনে সর্বমোট ৭+২১+২১=৪৯টি কঙ্কর মারতে হয়।
 
 
কঙ্কর নিক্ষেপের সময়
সূর্যোদয়ের পর থেকে কঙ্কর নিক্ষেপের সময় শুরু হয়। তবে সুন্নত হলো সূর্য উঠার কিছু সময় পর দিনের আলোতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা। হজরত জাবের (রা.) বলেন, ‘কোরবানির দিবসের প্রথম ভাগে (সূর্য উঠার কিছু পর) রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উটের পিঠে আরোহণ অবস্থায় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করেছেন। সূর্য হেলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এর সময় থাকে। দুর্বল ও নারীদের জন্য ১০ তারিখের রাতে সূর্যোদয়ের আগে কঙ্কর নিক্ষেপের অবকাশ রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যখন সহজে সুযোগ হয় তখনই কঙ্কর মারা যাবে।
হজের গুরুত্বপূর্ণ রোকন তাওয়াফ। তাছাড়া হজ¦ নির্দিষ্ট ৫ দিনে সম্পন্ন হয়। কিন্তু হজের সফরে হাজিগণ দীর্ঘ দিন মক্কায় অবস্থান করে। এ সময়ে প্রতিনিয়ত তাঁরা তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফের অনেক ফজিলত রয়েছে। সে কারণেই তাওয়াফ যেন সঠিক এবং সহিহ হয় সে জন্য তাওয়াফের নিয়ম-কানুন জানা জরুরি। তাই ধারাবাহিকভাবে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করার পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-
তাওয়াফ শুরু স্থান
পবিত্র কাবা শরিফের যে কোনায় হাজরে আসওয়াদ স্থাপিত, সেই কোনা থেকে মাতআফের (তাওয়াফের জায়গার) ওপর দিয়ে মসজিদে হারামের দিকে একটা দাগ দিয়ে চিহ্নিত করে দেয়া আছে এবং কাবা শরিফের গিলাফের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত আরবিতে ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দের ক্যালিগ্রাফি খচিত লেখা রয়েছে। সে বরাবর দাগের ওপর দাঁড়ানো।হজ্ব নিয়ে আমার সামান্য অভিজ্ঞতা আমার জীবনের পরম তৃপ্তির ভ্রমণ
 
 
হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু এবং এখানেই শেষ করতে হয়
তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু হয়ে মুলতাযেম, কাবা শরিফের দরজা, হাতিমে কাবা হয়ে রুকনে শামি ও ইরাকি শেষ করে রুকনে ইয়েমেনি অতিক্রম করে আবার হাজরে আসওয়াদে এসে শেষ করতে হয়। বাইতুল্লাহ প্রদক্ষিন করার সময় রুকনে ইয়েমেনি কর্নার অতিক্রমকালে সম্ভব হলে চুম্বন করা বা হাতে স্পর্শ করা। ভিড় থাকলে ইশারা করাই যথেষ্ট। পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ হজ¦ ও ওমরার জন্য ফরজ কাজ। হজ ও ওমরাকে সঠিক ও পরিপূর্ণ করতে হলে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করা আবশ্যক। ক্বাবা শরীফের দক্ষিণ-পূর্ব থেকে শুরু করে একাদিক্রমে ৭বার ক্বাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করাকে ইসলামে তাওয়াফ বলা হয়ে থাকে। মুসলমানদের জন্য এটি হজের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্দরভাবে বিশ্বনবির মতাদর্শ অনুযায়ী পবিত্র কাবা শরিফকে সহিহভাবে তাওয়াফ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
 
 
রমল করা
বাইতুল্লাহকে সাতবার চক্করের মাধ্যমে তাওয়াফ শেষ হয়। এ সাত চক্করের প্রথম তিন চক্করে রমল করতে হবে। প্রথম তিন চক্বরকে রমল বলে। অর্থাৎ বীর দর্পে দ্রুততার সঙ্গে তাওয়াফ করা। পরবর্তী চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেটে তাওয়াফ সম্পন্ন করা।
লেখক : বদর উদ্দিন আহমদ, badaruddin56@gmail.com, সেল ফোন- ০১৭১১৯৬৭৫১৮
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd