ঢাকা : শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ প্রকৌশলীর বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি          রাজধানীর ৬৪ স্থানে বাস স্টপেজ নির্মাণ হবে : কাদের          ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৩ কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের হবে : অর্থমন্ত্রী          দ্বীপ ও চরাঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে ইন্টারনেট           সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : স্পিকার          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:৪৭:১৯আপডেট : ৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:২৬:১৭
এসো স্কেটিং করি
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 

মজার খেলা স্কেটিং রোল বল।পা চলবে, কিন্তু হাঁটার কষ্ট নেই।স্কেটিংয়ের মজাই আলাদা। দ্রুতগতিতে পথ চলাই শুধু নয়, স্কেটিং আসলে একধরনের খেলা, যে খেলা শরীর ফিট রাখতেও সাহায্য করে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, খুলনাসহ বিভিন্ন শহরে স্কেটিং খেলা চলছে ক্লাবের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে। যানজটের রাস্তায় আটকে পড়া গাড়িকে পাশ কাটিয়ে সাঁই করে ছুটে যাওয়া স্কেটম্যানকে সুপারম্যান না ভাবলেও অনেকেই চোখ বড় বড় করে তাকায়। চাকাযুক্ত বিশেষ জুতা পরে গতিময় ছুটে চলার একমাত্র সহজ উপায় হলো স্কেটিং।বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা স্কেটিংয়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরির খেলায় বর্তমানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে। বর্তমানে অনেক ছোট বয়স থেকেই অনেকে শুরু করছে।তৃণমূল থেকে আমরা সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।
 
বাংলাদেশে স্কেটিং
বাংলাদেশে স্কেটিং খেলা চলছে মোটামুটি ৩৩ বছর হলো। আর্জেন্টাইন কোচ গ্রেগোসহ দু’জন বাংলাদেশির হাত ধরে এর যাত্রা। এরপর ১৯৯৪ সালে গঠিত হয় বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশন।এই ফেডারেশনের অধীনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কেটিং খেলোয়াড় তৈরির কাজ চলছে।
 
স্কেটিংয়ের নানা প্রকার
স্কেটিংয়ের বিভিন্ন খেলার মধ্যে ফিগার স্কেটিং, হকি স্কেটিং, রোলবল স্কেটিং ও স্পিড স্কেটিং বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয়। শীতপ্রধান দেশে বরফের ওপরে বিশেষ একধরনের স্কেটিং হয়। দুই বছর অন্তর একেকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে খেলা পরিচালনা করা হয়।বয়সভিত্তিক ৬-৮, ৮-১০, ১০-১২, ১২-১৪, ১৪-১৬, ১৬-১৮ ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা হয়। এ ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছে আরেকটি ক্যাটাগরি।এসো স্কেটিং করি
 
যেখানে শিখতে পারবেন
রাজধানীতে স্কেটিং শেখানো হয় এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সার্চ স্কেটিং ক্লাব, আজাদ স্কেটিং ক্লাব, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব, উত্তরা ফ্রেন্ডস ক্লাব, লেজার স্কেটিং ক্লাব, ধানমন্ডির আবাহনী মাঠের ভেতরে, ধানমন্ডি লেকের ভেতর, কানাডিয়ান স্কুল মাঠে, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের রয়েল ক্লাব।ঢাকার বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে স্কেটিং শেখার ব্যবস্থা আছে।
স্কেটিং শিখতে বিভিন্ন ক্লাব বিভিন্ন রকম টাকা নিয়ে থাকে। সাধারণত ৬০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ক্লাবে শেখা যাবে স্কেটিং।বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং দলের জাতীয় কোচ আশরাফুল আলম মাসুম জানান, পাঁচ বছর বয়স থেকে স্কেটিং শুরু করা যেতে পারে। এই বয়সে বাচ্চাদের মেধা ও মনোযোগ বেশি থাকে। দুই দিনের মধ্যেই সাধারণত দাঁড়াতে শিখে যায়। এরপর নিজের শক্তি বা সামর্থ্যের ওপর তার গতি বাড়বে।
 
আজাদ স্কেটিং ক্লাব
শেরেবাংলানগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে চলে এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। পরিচালনা করেন মোহাম্মদ আজাদুর রহমান। প্রশিক্ষণের সময়—রবিবার থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৭টা-৯টা পর্যন্তও চলে প্রশিক্ষণ। ভর্তি ফি-১০০০ টাকা এবং মাসে বেতন ১০০০ টাকা। ফোন : ০১৭২৭২৮৮৩৮৯।
 
সার্চ স্কেটিং ক্লাব
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা চলে প্রশিক্ষণ। শুধু শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত। ভর্তি ফি ১০০০ টাকা। মাসিক ফি নেই। ক্লাবের লোগোসহ ফ্রি টি-শার্ট দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক আরশাদ আলম বললেন, ‘আমার ক্লাবের অর্জন, এখান থেকে দুইজন বিশ্বকাপ খেলেছে। আমরা প্রতিবছর বিভিন্ন কম্পানির স্পন্সরে ঢাকা-কক্সবাজার রোড শো করি।’ যোগাযোগ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ, ঢাকা। ফোন : ০১৬৮৭২৮৩১২৭।
 
গুলশান ইয়ুথ ক্লাব
রাজধানীর গুলশান-২-এর ১০৯ নম্বর রোডে থাকা গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে ক্লাবটির প্রশিক্ষক আজাদ স্কেটিং ক্লাবের মোহাম্মদ আজাদুর রহমান। ক্লাস হয় শনিবার ও রবিবার, বিকেল ৪টা-৫টা পর্যন্ত। শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা-১০টা পর্যন্ত ক্লাস। ভর্তি ফি ১০০০ টাকা ও মাসিক বেতন-৫০০ টাকা। ফোন : ০১৭২৭২৮৮৩৮৯।এসো স্কেটিং করি
 
লেজার স্কেটিং ক্লাব
স্থান—বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে এটি পরিচালনা করছেন দীপ্র। জানালেন, এখানে শখানেক শিক্ষার্থীকে আলাদা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ক্লাব থেকে বিশ্বকাপে খেলেছে সাতজন। টানা পাঁচবারের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নও ক্লাবটি। প্রশিক্ষণের সময়—বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার বিকেল ৪টা-৬টা। ভর্তি ফি এক হাজার টাকা। মাসিক বেতনও এক হাজার টাকা। মোবাইল : ০১৯৭৪৮৯৩০২৪।
 
ডায়নামাইড স্পিড স্কেটার্স
মিরপুরে স্কেটিং মানেই ডায়নামাইড স্পিড স্কেটার্স । এই ক্লাবে ৫০ জন এর ও বেশি  স্কেটার স্কেটিং প্রশিক্ষন নিয়ে থাকে। বাচ্চাদেরকে যত্নসহকারে  প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। অনুশীলন থাকে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার। অনুশীলন চলে বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত । মেয়েদের অনুশীলন চলে শুধু শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত। ভর্তি ফি ৩০০ টাকা এবং মাসিক ফি ২০০ টাকা।  ক্লাবের লোগোসহ  টি-শার্ট দেওয়া হয়; যার মূল্য ৫০০ টাকা। ডায়নামাইড স্পিড স্কেটার্স ক্লাবে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিসেস তানিয়া চৌধুরী। প্রধান প্রশিক্ষক মো. তুরিন পাটোয়ারী এবং সহকারী প্রশিক্ষক মো. ইকরাম।  যোগাযোগ : ০১৮৮৪৬১৩৬৬৬, ০১৬৮৬৩২০৬৯৬।
 
সিরাজগঞ্জ স্কেটিং ক্লাব
সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের ক্লোজার (হার্ড পয়েন্ট) এ সপ্তাহে ৭ দিন সকালে এবং বিকালে স্কেটিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। খুব যত্ন সহকারে এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কেটিং শেখানো হয়। এই ক্লাবের প্রধান প্রশিক্ষক মো. আব্দুল আউয়াল রনি। সহকারি প্রশিক্ষক: ১. এস এম খায়রুল বাশার, ২. মো. আবু ইউসুফ মুসা, ৩. মো. হৃদয় হাসান। যোগাযোগ : ০১৭৫৭৯৫৮০৯৮, ০১৭৫৫৭৬৬৯০২। এখানে স্কেটিং প্রশিক্ষণে কোনো ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন নেওয়া হয় না। যোগাযোগ : ০১৭৫৭৯৫৮০৯৮, ০১৭৫৫৭৬৬৯০২।
 
স্কেটিং শিখতে যা দরকার
স্কেটিং জুতা, সেভ গার্ড, হাতের কনুই ও পায়ের হাঁটুর জন্য বিশেষ সেফটি গার্ড, হেলমেট, হাতের গ্লাভস, জার্সি ও শর্টস।
 
স্কেটিংয়ে যা যা লাগবে কোথায় থেকে কিনব
বেশির ভাগ স্পোর্টস দোকানেই স্কেট জুতা পাওয়া যাবে। তবে সব দোকানে ভালো মানের না-ও মিলতে পারে। এর জন্য যেতে পারো বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, পান্থপথের বডি অ্যান্ড স্পোর্টস, কলাবাগানের ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস, গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটের ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস বা স্পোর্টস টাইম গুলশান-২-এ। সাধারণত বেশির ভাগ স্কেট জুতা আর্টিফিশিয়াল লেদারে তৈরি। ভালো মানের জুতায় পাবে শতভাগ চামড়া। ভেতরের সোলটি বানানো হয় হাড় দিয়ে। চাকাগুলো হয় রাবারের। কিন্তু কম দামি জুতাগুলোর এ সবই হয় কৃত্রিম।এসো স্কেটিং করি
 
দামদর ব্র্যান্ড
জোরেক্স স্কেট ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় পাওয়া যায়। কিন্তু এটি পেশাদার স্কেটিংয়ের জন্য নয়। টিআন স্কেট ১৮০০ থেকে ৫০০০ টাকায় পাওয়া যায়। এটি নতুন স্কেটারদের জন্য ভালো। অ্যাকশন স্কেট  ১২০০ থেকে সাত হাজার টাকা এবং মিসুকি স্কেট তিন হাজার থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এগুলোও শিক্ষানবিশদের কথা মাথায় রেখে বানানো।
 
কুগার স্কেটের দাম সাড়ে সাত হাজার টাকা থেকে শুরু। আছে ৪০ হাজার টাকা দামেরও। এটি সব স্পোর্টস দোকানে তেমন পাওয়া যায় না। বন্ট ভায়পর স্কেটের দাম ৩০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ও পাওয়ার স্লাইড স্কেট ১৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। এগুলোর জন্য আগেই অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়। এ ছাড়া স্কেটিং করার সময় আঘাত এড়াতে দরকার হয় গ্লাভস ও হেলমেট। স্পোর্টসের প্রায় সব দোকানেই এসব মিলবে। গ্লাভসের দাম ৭০০-১২০০ ও হেলমেট পাওয়া যাবে এক থেকে তিন হাজার টাকায়।
 
কেনার আগে
❏ চাকাগুলো ফ্রি কি না দেখতে হবে। বিয়ারিংটাও চেক করে নিতে হবে। স্কেট করছে এমন কাউকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবহার করে দেখাই উত্তম।
❏ জুতার বডি স্ট্রং হতে হবে। হাত দিয়ে চাপ দিলে যেন দেবে না যায়।
❏ আসল চামড়ার হলে তা টিকবে অনেক দিন। কাঠামোটাও হতে হবে হাড়ের। আর চাকার রাবার চেক করে দেখতে হবে মসৃণ আছে কি না। ক্ষয়ের ছাপ দেখা গেলে ওটা এড়িয়ে চলবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
খেলাধূলা পাতার আরো খবর

Developed by orangebd