ঢাকা : শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ প্রকৌশলীর বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি          রাজধানীর ৬৪ স্থানে বাস স্টপেজ নির্মাণ হবে : কাদের          ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৩ কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের হবে : অর্থমন্ত্রী          দ্বীপ ও চরাঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে ইন্টারনেট           সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : স্পিকার          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:১৪:৩৭আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:২৬:৫৮
আদমদীঘিতে কুমড়া বড়িতে সফলতা অর্জন করেছে আরতি রানী
আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা


 


বগুড়ার আদমদীঘিতে এক সনাতন ধর্মালম্বী নারী সুস্বাদু কুমড়া বড়ি তৈরী করে সাবলম্বী হয়েছে। শীতের আগমনে মৌসুম শুরু হওয়ায় মহা ব্যস্ত সময় পার করছে উপজেলার নশরতপুর কলেজ পাড়ার দরিদ্র ভোজন চন্দ্রের স্ত্রী আরতি রানী (৩৮)। তার সাথে পরিবারের লোকজনও তাকে সহায়তা করছে। অল্প পূজিতে বেশী লাভ হওয়ায় দরিদ্র এই নারী নিজের প্রচেষ্টায় এই কর্মে জড়িয়ে আজ প্রান্তিক পর্যায় থেকে ব্যাপক প্রসার ঘটাতে পেরেছে। মাসকালাই ডালের তৈরী কুমড়া বড়ি সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদাও বেড়ে যাওয়াতে বেশ উন্নতি হয়েছে আরতি রানীর। চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বেশ সুখেই আছে পরিশ্রমি এই নারী। প্রায় সারা বছর কুমড়া বড়ি তৈরির আমেজ থাকলেও শীতকালে এই উপজেলার নসরতপুর কলেজ পাড়া গ্রামের ভোজন চন্দ্রের স্ত্রী আরতি রানী কুমড়া বড়ি তৈরী করে তাদের সংসারে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করে পরিবর্তন ঘটিয়েছে। দামে কম মানে ভাল হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার তৈরী কুমড়া বড়ি সরবারহ করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে তার তৈরী কুমড়া বড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা ভাল হওয়ায় আরতি রানী ও আর পরিবার বেশ খুস মেজাজে রয়েছে। কার্তিক মাসে শীতের আগমনে শ্রমজীবি আরতি রানী অন্যান্য কাজ কর্ম কম থাকার কারণে তার স্বামী ভোজন চন্দ্রকে সাথে নিয়ে ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কুমড়া বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় তার এই কুমড়া বড়ি’র ব্যবসা প্রান্তিক পর্যায় থেকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রেখে যাচ্ছে। সরকারী উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার এই ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে আরো স্বাবলম্বী হতে পারবে বলে সে জানান।
জানা গেছে, বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর ইউনিয়নের কলেজ পাড়া গ্রামের ভোজন চন্দ্রের স্ত্রী আরতি রানী প্রায় আট বছর ধরে জীবন-জীবিকার প্রধান কর্ম হিসেবে প্রায় সারা বছরই কুমড়া বড়ি তৈরি ও ব্যবসা করে আসছে। শীতের সময় এই ব্যবসার পুরো মৌসুম হওয়ায় তার বাড়িতে চলছে এখন সুস্বাদু খাবার কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম। আদমদীঘি উপজেলা তথা বগুড়া জেলা এবং আশেপাশের বিভিন্ন জেলার হাট-বাজারে ব্যাপক হারে পাওয়া চাহিদা রয়েছে তার তৈরী সুস্বাদু খাবার কুমড়া বড়ি। আরতি রানী জানান, কুমড়া বড়ি তৈরির মূল উপকরণ হলো মাসকালাই ও খেসারি ডাল। মাসকালাই প্রথমে রোদে শুকিয়ে যাঁতায় ভেঙে পরিষ্কার করে তিন থেকে চার ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর ভোর রাত থেকে তার স্বামী ভোজন চন্দ্র ও তার ছেলেকে নিয়ে শিল-পাটায় ডাল মিহি করে গুঁড়ো করার পর তা দিয়ে কুমড়া বড়ি তৈরি করে। কুমড়া বড়ি তৈরির পর থেকে এক টানা ভাল রোদ হলে দুই দিনের মধ্যেই শুকিয়ে খাবার উপযোগী হলে হাট-বাজারে খুচরা ও পাইকারদের কাছে পাইকারী বিক্রয় করে সে। নানান জাতের তরকারির সাথে কুমড়া বড়ি রান্না করলে খাবারে এনে দেয় ভিন্ন রকমের স্বাদ। প্রায় সব শ্রেণির মানুষ কুমড়া বড়ির তরকারিতে আকৃষ্ট। তবে এর নাম করণ নিয়ে রয়েছে এলাকা ভেদে নানান কথা। কথিত আছে যে, এক সময় দেশের অভিজাত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা কুমড়া এবং ডালের মিশ্রণে এটি তৈরি করত বলে এর নাম কুমড়া বড়ি। এক কালের শখের খাবার থেকে উৎপত্তি হওয়া কুমড়া বড়ি এখন শত শত মানুষের কর্মসংস্থান ও প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। আরতি রাণী আরো জানান, মাসকালাই থেকে তৈরি আসল কুমড়া বড়ি প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। সারা বছর এই ব্যবসা চললেও শীতকালে বড়ির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বেশি পরিমাণ বড়ি তৈরি করি।
এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালমা বেগম চাঁপা খন্দকার বলেন, উপজেলার নসরতপুর গ্রামে মৌসুমি তরকারি হিসেবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা কুমড়া বড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তবে এদেরকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সরকারি পর্যায় থেকে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে তারা আরো নিজেদের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে এবং তারা গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd