ঢাকা : শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০

সংবাদ শিরোনাম :

  • একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ প্রকৌশলীর বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি          রাজধানীর ৬৪ স্থানে বাস স্টপেজ নির্মাণ হবে : কাদের          ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৩ কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের হবে : অর্থমন্ত্রী          দ্বীপ ও চরাঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে ইন্টারনেট           সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : স্পিকার          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:১৮:০৮
বিডিআর বিদ্রোহের ১১ বছর
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 


বিডিআর বিদ্রোহ। ইতিহাসের এক ন্যক্কারজনক ঘটনা। তবে ১১ বছরেও বিদ্রোহের পেছনের কারণ অজানা রয়ে গেছে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআরের বিপথগামী সদস্যরা দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্মম হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে পিলখানায় নারকীয় তাণ্ডব চালায়।
মহা-পরিচালকসহ (ডিজি) তারা ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে নৃসংশভাবে হত্যা করে তারা।
ঘটনার পর বিদ্রোহ তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের তিন তদন্ত কমিটি হয়েছিল। সাবেক সচিব মো. আনিসুজ্জামানকে প্রধান করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কমিটি গঠন করে। কমিটি বিদ্রোহের জন্য বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছিল।
একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ বা নেপথ্যের কারণ তদন্তের সুপারিশ করে। আর পিলখানায় ঘটে যাওয়া দু‘দিনের ঘটনার পর হত্যা মামলা এবং বিস্ফোরক মামলা তদন্ত করে সিআইডি।
অন্যদিকে উচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের সঙ্গে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, আইনের শাসন অমান্য করে, বিডিআর জাওয়ানেরা ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীর ৫৭ জন মেধাবী কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেন।
এটি ছিল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের চক্রান্ত। বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল, ‘নবনির্বাচিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে অস্থিতিশীল করা, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করা ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত করা’। তবে দীর্ঘ ১১ বছরেও এতসব কিছু কোন তদন্ত হয়নি। অথচ ফৌজদারি মামলার বিচারিক কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ছাড়াও আরও ৪২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। ৮ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়।
নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। হাইকোর্টে আপিল চলার সময়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। খালাস পান ১২ আসামি। নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে আপিল করেছিল, তার মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গ, অন্যদিনের মতো ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা সদর দপ্তরে সকাল শুরু হয়নি। এদিন সকালে শুরু হয় গুলির শব্দ। হত্যাকাণ্ড এবং নৃশংসতা নিয়ে বিদ্রোহের প্রথমদিনে তেমন ধারণা না পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় দিনে আটকে রাখা সেনা কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেয়া হয়।
এরই মধ্যে জওয়ারদের সঙ্গে সঙ্গে দফায় বৈঠক, তাদের আত্মসমপর্ণের আহবানসহ নানা চেষ্টা করা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে একে একে ৫৭ সেনা কর্মকর্তার মাটিতে পুতে রাখা ক্ষতবিক্ষত লাশ বেরিয়ে আসে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পাতার আরো খবর

Developed by orangebd