ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০

সংবাদ শিরোনাম :

  • ২০২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার হয়েছে ৫.২৪ শতাংশ : বিবিএস          চলতি বছরের মধ্যে ১০টি ইউটার্ন কাজ শেষ হবে : ডিএনসিসি মেয়র          ভ্যাট পরিশোধ করা যাবে অনলাইনে          প্রবীণদের কোভিড-১৯ এর নমুনা বাসা থেকে সংগ্রহের নির্দেশ
printer
প্রকাশ : ০১ জুলাই, ২০২০ ১৬:১১:২৮
চ্যালেঞ্জ জয়ের বাজেট আজ থেকে কার্যকর
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 

আজ ১ জুলাই থেকেই বাস্তবায়ন হচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের নতুন বাজেট। দেশের করোনা পরিস্থিতিতে এবারের বাজেট তৈরিতে মানুষের জীবন-জীবিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’। এবার কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে করোনার কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
 
বাজেট প্রসঙ্গে ইতোমধ্যেই অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাজেট হবে দেশের মানুষের জন্য। বাজেটে মানুষের জন্য কাজ এবং মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমরা আমাদের সরকারের দেওয়া নতুন বাজেটে দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রেখেছি। তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। বাজেটে তা উপস্থাপন করা হয়েছে।’ সব জেনেশুনেই কঠিনেরে ভালোবেসেছেন বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।  
 
বাজেটের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘করোনাকালে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মন্ত্রণালয়গুলোকে বরাদ্দ দিয়েছি। বরাদ্দের অর্থ কোথা থেকে আসবে তা নিয়ে কখনও ভাবিনি। বরাদ্দ দিতেও কার্পণ্য করিনি। কারণ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন তো মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই হয়। তাই সরকারের কর্মকাণ্ডের উন্নয়নে মন্ত্রণালয়গুলোকেই বরাদ্দ দিতে হবে। এ বছর আমরা কৃষি ও স্বাস্থ্যখাতকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট তৈরি করেছি। আগে আয় করে ব্যয় করতাম। এবার তার উল্টো। করোনা মোকাবিলায় এ বছর আমরা আগে ব্যয় করবো, পরে আয় করবো। এই থিওরিতে বাজেট করেছি। ইনশাল্লাহ এই বাজেট আমরা বাস্তবায়নও করবো।’ 
 
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালেরও দ্বিতীয় বাজেট। এর আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে দুই মেয়াদের অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত ১০টি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন। এরও আগে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকার গঠিত হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া দিয়েছিলেন পাঁচটি বাজেট। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার দিয়েছিল তিনটি বাজেট। স্বাধীন বাংলাদেশে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০তম বাজেট। 
 
জানা গেছে, নতুন বাজেটে ঘাটতির (অনুদানসহ) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ শতাংশ।
 
নতুন অর্থবছরের এডিপিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া ১০টি খাত হচ্ছে: ১. পরিবহন, ২. অবকাঠামো, পানি ও গণপূর্ত, ৩. বিদ্যুৎ, ৪. শিক্ষা ও ধর্ম, ৫. বিজ্ঞান, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি, ৬. পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান, ৭. স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ, ৮. কৃষি, ৯. পানিসম্পদ, ১০. জনপ্রশাসন। এই ১০ খাতে বরাদ্দ মোট এডিপির ৯৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।
 
নতুন বাজেটে সরকারের চলমান সাত মেগা প্রকল্পের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকা। মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ চার হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। মহেশখালী মাতারবাড়ির কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে বরাদ্দ তিন হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তিন হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
 
এদিকে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক সর্বোচ্চ ১০ মন্ত্রণালয় হচ্ছে– স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পাতার আরো খবর

Developed by orangebd