ঢাকা : বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

সংবাদ শিরোনাম :

  • বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ : ওবায়দুল কাদের          সন্ধ্যার পর দুর্গাপূজার মণ্ডপ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত          সাংবাদিকদের রিপোর্ট সরকারকে সহযোগিতা করে : প্রধানমন্ত্রী          ২০২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার হয়েছে ৫.২৪ শতাংশ : বিবিএস          ভ্যাট পরিশোধ করা যাবে অনলাইনে
printer
প্রকাশ : ১৮ জুলাই, ২০২০ ১৫:৩৫:১২আপডেট : ১৮ জুলাই, ২০২০ ১৫:৪১:০৬
‘বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশংসনীয় ভুমিকা পালন করছে’
বিপ্লব বিজয়


 

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে প্রশংশিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক যোগদানের দু’বছর পুর্তিতে মাদকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই তাকে চট্টগ্রামে রেঞ্জের ডিআইজি পদে নিয়োগ প্রদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চট্টগ্রাম বিভাগের পুলিশ প্রশাসনকে তিনি ঢেলে সাজানোর জন্য নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ওই সময় দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল- চট্টগ্রাম বিভাগের ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের সকল সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারিকে সঙ্গে নিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে কোনো রকম বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই তিনি এই জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। নির্বাচনের পরে তার দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ ছিল-  চট্টগ্রাম বিভাগের সকল পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে  অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সততা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা। তিনি প্রতিটি থানায় গিয়ে থানার পুলিশ কনস্টেবল এএসআই, এসআই, ওসি, এএসপি এবং এসপিদের সঙ্গে মিটিং করে তাদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন। তিনি থানাকে জনগণের আস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। থানায় গিয়ে সাধারণ জনগণ যেন মামলা সাধারণ ডায়েরি করার ক্ষেত্রে কোনো রকম হয়রানি না হয় এবং জনমত জরিপের ভিত্তিতে পুলিশের সহায়তা পায় এজন্য বিট পুলিশিং সেবা চালু করেন। কোন পুলিশ সদস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি কোনো ধরনের অভিযোগ জনগণ করলে তা তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ  জনগণক ও পুলিশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করার জন্য নানামুখী কর্মসূচি তিনি গ্রহণ করেন। তৃতীয় কাজ ছিল- বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগকে  মাদক নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণ করা। বিশেষ করে বৃহত্তর চট্টগ্রামের কক্সবাজার কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার চোরাচালান সরবরাহ প্রচুর আনাগোনা ছিল ওপেন সোর্স। দেশের বড় বড় মাফিয়া ডনরা নানা কৌশলে মাদক পাচার বিক্রয় সরবরাহ কাজে সর্বদা লিপ্ত ছিল। তিনি চোরা কারবারীদের নামের তালিকা করে তাদেরকে নানা জায়গায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করার এবং এর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে অনেক চোরাকারবারী ক্রসফায়ারে নিহত হন। এভাবে মাদক চোরাচালান কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনেন তিনি। এছাড়াও কক্সবাজার জেলায় উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে ১২লাখ রোহিঙ্গা জীবনমান রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। দু’বছরের দায়িত্ব গ্রহণের বিচক্ষণতার সঙ্গে তিনি নানা উদ্যোগ নেওয়া সকল ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছেন বলে অভিমত প্রকাশ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিশেষ দায়িত্ব হিসেবে বর্তমানের করোনা কালে ডাক্তারদের পরে দ্বিতীয় সম্মুখ সাড়ির যোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জ বৈশিক এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।এই করোনাকালে বিশেষ করে লকডাউন সময়ে মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, গরীব-অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ সামগ্রির ব্যবস্থা করা, সমাজের অবহেলিত শ্রেণি হিজড়া বেদে সম্প্রদায় মানুষের জন্য খাবার সুনিশ্চিত করাসহ নানা কাজে দায়িত্ব পালন করছে বলে তিনি জানান। জনাব খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১৬শ’ পুলিশ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং দু’জন পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। এক্ষেত্রে সকল জেলা পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের সকল সদস্যদের  সফল ব্যবস্থাপনায় সঠিক পদক্ষেপের কারণে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd