ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০

সংবাদ শিরোনাম :

  • ২০২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার হয়েছে ৫.২৪ শতাংশ : বিবিএস          চলতি বছরের মধ্যে ১০টি ইউটার্ন কাজ শেষ হবে : ডিএনসিসি মেয়র          ভ্যাট পরিশোধ করা যাবে অনলাইনে          প্রবীণদের কোভিড-১৯ এর নমুনা বাসা থেকে সংগ্রহের নির্দেশ
printer
প্রকাশ : ৩০ জুলাই, ২০২০ ১৩:৩৬:১৭
অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণ
এ কে নাহিদ


 


অধূণা বিশ্বে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চলছে । করোনাভাইরাস মহামারীর ছোবলে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য যেমন ভীষণ হুমকির মুখোমুখি তার যুগপথ প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিও টালমাটাল। এ মুহূর্তে বিশ্বের সবার মনে যে প্রশ্নটি বেশ জোরালো হয়ে দেখা দিয়েছে তাহলো- পৃথিবী কি আবার আগের রূপে ফিরবে যেমনটি ছিল করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগের অবস্থায়? এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিশেষজ্ঞমহলের মতে পৃথিবী হয়তো আগের রূপে আর ফিরবে না! তাহলে, পৃথিবী পরিবর্তিত স্বাভাবিক রূপ ধারণ করবে এবং অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণ হবে;যা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে।মূলত এই নতুন অর্থনৈতিক রূপান্তর, ভবিষ্যতের বাকবদল নিয়ে আলোচনা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এর প্রভাব কেমন হবে তা এখন বেশ চিন্তার বিষয়।অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণের প্রধান রূপান্তরটি ঘটবে ‘সেবা’ খাতে। যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিবর্গ বিভিন্নভাবে জনগণকে নানা ধরনের সেবা প্রদান করছেন, এই সময়ে তাদের কার্যকৌশলে বিশেষত অপারেশনাল ম্যানেজমেন্টে বড় পরিবর্তন আসবে, আনতে হবে। কেননা, জনগণ আগামী দিনগুলোতে ঘরে বসেই সব ধরনের সেবা পেতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন সঙ্গত কারণেই প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের সেবাসমূহের ডিজিটালাইজড মাধ্যমে কাস্টমারদের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান এটি দ্রুত করতে পারবেন তারা সারভাইভ করবেন কিন্তু যারা এটি পারবেন না করোনাকাল দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা ভীষণভাবে পিছিয়ে যাবেন, এমনকি প্রতিযোগিতার বাজার থেকে হারিয়ে যাবার সম্ভাবনাও রয়েছে! মূলত সেবা খাতের সার্বিক ডিজিটালাইজেশন এবং হোম সার্ভিস সিস্টেমই হবে অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণের প্রধান বাঁক বদল। সারাবিশ্বে এই নতুন ধারা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার সুযোগ আমাদেরও থাকবে না! সুতরাং এখনই সময় দেশের সেবা খাতে আর্থিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।এছাড়া অন্যতম আর্থিক সেক্টরটি হলো উৎপাদনশীল’ খাত। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছোট-বড় কলকারখানাগুলোতেও করোনা পরিস্থিতি প্রভাব ফেলেছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না! এ খাতের বড় পরিবর্তনটি ঘটবে হয়তো প্রতিষ্ঠানের ‘জনবল’ বা কর্মীদের প্রসঙ্গে। শিল্প-কারখানাগুলো ধীরে ধীরে কর্মীদের ‘ম্যানুয়াল’ উৎপাদনশীল কর্মকান্ড থেকে ছাঁটাই করে বিশেষত রোবট এবং অন্যান্য যান্ত্রিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়বে। উৎপাদনের পরবর্তীতে মার্কেট যাচাই এবং সার্ভের কাজটিও কলকারখানাগুলো অনলাইনেই সম্পন্ন করবে ভবিষ্যতে, ফলে এক্ষেত্রেও মানুষের জায়গা দখল করে নিবে প্রযুক্তি। সর্বশেষ পর্যায়ে বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াটি হয়তো ‘ম্যানুয়াল এবং ডিজিটাল’ উভয় মাধ্যমে সংঘটিত হবে। অর্থাৎ পাইকারি শিপিং কার্যক্রম বলতে গেলে আগের মতই থাকবে এবং খুচরা বিপণন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড উপায়েই চলবে। সঙ্গতকারণে আমাদের দেশের শিল্প-কারখানাগুলোকেও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি যদি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে তারা টিকে থাকতে চান।পরিশেষে বলা যায়,অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণ হবে মূলত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি। ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি সচল এবং সমৃদ্ধ রাখতে- অর্থনীতিকে যান্ত্রিক ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢেলে সাজাতে হবে। নতুন স্বাভাবিক এ অর্থনীতিতে এর বড় একটি ঋণাত্মক প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের উপরে; এতে বেড়ে যেতে পারে বেকারত্বের ভয়াবহতা! সে বিষয়টি এখনই বিবেচনায় রেখে আমাদের মানব সম্পদকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তুলতে হবে; যাতে নতুন পরিস্থিতিতে দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে তারা সম্পৃক্ত হতে পারেন এবং অভিযোজিত অর্থনীতিতে নিজের জায়গা দখল রাখতে এবং নতুন শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd