ঢাকা : মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

সংবাদ শিরোনাম :

  • পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি প্রায় ৯১ ভাগ : সেতুমন্ত্রী          মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হোয়াইট হাউসে যে-ই আসুক বাংলাদেশের সমস্যা নেই : মোমেন           মাস্ক পরিধান সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান          গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ১৩২০ করোনা রোগী, মৃত্যুবরণ ১৮ জন          ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও পদ্মা ছাড়া সব নদ ও নদীর পানি কমছে           শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ফের বাড়লো          ২০২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার হয়েছে ৫.২৪ শতাংশ : বিবিএস          ভ্যাট পরিশোধ করা যাবে অনলাইনে
printer
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর, ২০২০ ১১:১২:৩১আপডেট : ১৯ অক্টোবর, ২০২০ ১১:৫৬:৪৬
`বিশ্ব করিম মঞ্জিল ও আমার মা’
এ কে নাহিদ


আমার মা বেগম রাহেলা করিম; বিশ্ব করিম মঞ্জিল-এর সার্বজনিন ‘মা’ তথা সবার মা। আমি যখন এই পৃথিবীতে আগমন করি এবং বুঝতে শিখি তখন থেকেই এই বিষয়টি লক্ষ্য করি। পৃথিবীর অনেক মানুষ তাঁকে ‘মা’ বলে ডাকেন। আমার জীবন এগিয়ে চলার শুরুতে বিষয়টি মেনে নিতে কষ্ট হতো; সময়ের পরিক্রমায় আমি এই বিষয়ে স্বাভাবিকভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। বিষয়টি আমি জানার চেষ্টা করি। এরই আলোকে আমি জানতে পারি, আমার বাবা হযরত আব্দুল করিম মাওলানা একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন এবং মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞান প্রদান করতেন। তাঁর অনুসারীরা প্রায় প্রত্যেকে আমার বাবাকে ‘বাবা/বাজান’ সম্মানসূচক নামে ডাকতেন। ফলশ্রুতিতে আমার মাকেও সবাই ‘মা‘ সম্মাসসূচক নামে ডাকতেন। বলতে গেলে এভাবেই আমার ‘মা’ সবার মায়ে পরিণত হয়। তিনি হয়ে উঠেন, বিশ্ব করিম মঞ্জিল-এর ‘মা’। উল্লেখ্য, আমার বাবা ১৯৭৪ সালের ৭ই জানুয়ারি, সোমবার ভোর ৭টায় এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন; তখন আমি এই পৃথিবীতে সবেমাত্র আগমন করা একজন শিশু। প্রসঙ্গটি এখানেই সমাপ্ত থাক।

মানিকগঞ্জ সদর থানাধীন হাটীপাড়া ইউনিয়নের চরবংখুরী গ্রামের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত আব্দুল করিম মাওলানা’র (আল হাসানী, আল হোসাইনী, আল মাইজভান্ডারী) সহধর্মিণী এবং আমার মা বেগম রাহেলা করিম-এর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ অক্টোবর, সোমবার। ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর ৯০ বছর বয়সে তিনি এই নশ্বর পৃথিবী থেকে ওফাত হয়েছেন। বেগম রাহেলা করিম ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন আরঘোসাইল (হাজী বাড়ি) গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এখলাস মুন্সি ঢাকা’র নবাবগঞ্জের সজ্জন এবং মা অহেরুন নেসা (ফরিদপুরের বিখ্যাত ‘পাল বাড়ি’র বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ‘রহমত পাল’ এর কন্যা) ইসলামী পর্দানশীল ও দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। আমার বাবা হযরত আব্দুল করিম মাওলানা বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও সুবক্তা ছিলেন। পাশাপাশি আমার মা বেগম রাহেলা করিম জীবদ্দশায় অত্যন্ত উদার মন এবং দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর উদারতা ও দানশীলতার বিষয়টি আজো ওই এলাকায় মানুষের মুখে মুখে আলোচিত। বেগম রাহেলা করিম বার্ধক্যজনিত কারণে এই দিনে নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তাঁর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ অক্টোবর, সোমবার। এই উপলক্ষ্যে বিশ্ব করিম মঞ্জিল-এর পক্ষ থেকে আমি তাঁর আত্মা’র শান্তি কামনায় আত্বীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীসহ সবার কাছে দোয়া কামনা করছি। পাশাপাশি আমার মা পৃথিবীতে অবস্থানকলীন সময়ে যদি কেউ তাঁর কথা ও কর্মে কোনো রকমের কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি তাঁর কনিষ্ঠ সন্তান হিসেবে সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি; আপনারা সকলেই আমার মাকে ক্ষমা করে দেবেন বলে বিশ্বাস করি। একটি বিষয় আমি এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করার প্রয়োজন অনুভব করছি তাহলো আমার জন্মভূমি চরবংখুরী গ্রামটি নদীতে বিলিন হয়ে গিয়েছিল; এখন সৃষ্টিকর্তার অপারমহিমায় আবার সেই চরবংখুরীতে চর জেগে উঠেছে। এই গ্রামটি নদীতে বিলিন হওয়ার আগে বিভিন্ন অঞ্চলের নদীভাঙ্গন কবলিত মানুষ আমাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন আমি বি এ (অনার্স) বাংলায় অধ্যয়নরত। তৎকালীন সময়ে আমার মা আমাকে বলেছিলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে অবস্থানরত একজন মানুষ তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা ঋণ নিয়েছেন। আমি তার নাম জানি না। অথচ এখন আমার মা পৃথিবীতে নেই। এজন্যেই বলছি- আমার মা এই ধরনের যদি কোনো ঋণ কারো কাছ থেকে নিয়ে থাকেন তাহলে আমাকে জানাবেন; সেই ঋণ পরিশোধ করতে আমি একান্তভাবে আগ্রহী। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সেলফোন : ০১৭১২২২৩৭০১।
লেখক : সম্পাদক, টাইমওয়াচ

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd