ঢাকা : বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

সংবাদ শিরোনাম :

  • ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা          করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৬২ জন          বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত          জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মেডেল পেলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১১০ সদস্য          অষ্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের মধ্যে টিফা চুক্তি স্বাক্ষর          অনিবন্ধিত সব অনলাইন বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:৫৬:২৯আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০১:০৫:৫৯
‘শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ ফিরছে’
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা


 

‘ভোরে ঘুম ভেঙে তৈরি হওয়া, ঘুম চোখে স্কুলে যাওয়া, স্কুলে প্রবেশ করতেই সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা, আড্ডা, গল্পে মেতে  উঠা’ সব যেন ভুলতেই বসেছিল শিক্ষার্থীরা। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ। দীর্ঘ এই সময় শিক্ষার্থীদের ঘরবন্দী অবস্থায় কেটেছে। দেখা হয়নি প্রিয় বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষকদের সঙ্গে; যদিও অনলাইনে ক্লাশ হয়েছে। জমে আছে কত কথা, করোনাকালীন বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা। ১০ দিন আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই যেন তা একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করতে উদগ্রিব। তাদের সেই অপেক্ষার প্রহর ফুরাচ্ছে আজ। ৫৪৩ দিন পর আজ খুলছে দেশের স্কুল-কলেজ-মাদরাসা। সকাল থেকে ফের প্রতিটি ঘরেই শুরু হবে ব্যস্ততা, শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙবে স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় যাওয়ার তাড়া নিয়ে। অভিভাবকরা ব্যস্ত থাকবেন সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে। আর শিক্ষকরা আগের মতো পাঠদানে মনোযোগ দিবেন। শিক্ষার্থীরা ফের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেটে প্রবেশ করতেই ভো দৌড় দিয়ে ছুটবে ক্লাস রুমে। তাদের হাসি, আনন্দ, আড্ডা, খেলাধুলা, ছুটোছুটিতে প্রাণ ফিরে পাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
দেড় বছর পর স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় আবারও যেতে পারবে এই সংবাদে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। তাদের মনে যেন বইছে আনন্দের বন্যা। শিক্ষার্থীদের এই উচ্ছ্বাস ও আবেগকে স্বাগত জানিয়ে তাদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গত এক সপ্তাহে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের স্কুল-কলেজ এবং মাদরাসাগুলোর ধোয়া-মোছার কাজ শেষ করা হয়েছে। খেলার মাঠ, ক্লাসরুম করা হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নিজেরাও অংশ নিয়েছেন এই কাজে। কোন কোন স্কুল-কলেজ-মাদরাসার প্রবেশমুখে টাঙানো হয়েছে করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনাসংবলিত ব্যানার। শ্রেণিকক্ষের সামনে রাখা হয়েছে মাস্ক ও সতর্কতামূলক নির্দেশনা। হাত ধোয়ার জন্য পানির ট্যাংক ও কল স্থাপন করা হয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে। ঘরবন্দি শিক্ষার্থীরা যেমন আনন্দে উদ্বেলিত তেমনি উচ্ছ্বসিত শিক্ষকরাও। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীরাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তাদের পদচারণায় শ্রেণিকক্ষ মুখরিত না থাকলে পাঠদানের ‘মজাটা আসে না’। একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরার উচ্ছ্বাসে ভাসছে, অন্যদিকে বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা কবে ক্লাসরুমে ফিরতে পারবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের বন্যা কবলিত ও নদী ভাঙনে ১৫টি জেলার তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে শতাধিকের বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে সারাদেশের স্কুল-কলেজ-মাদরাসা যখন খুলছে তখন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বাড়লে প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার জামালপুর সার্কিট হাউসে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হতে যাচ্ছে। তারপরও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেলে প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে। দীপু মনি বলেন, সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে। আশা করি কেউ করোনায় সংক্রমিত হবে না। কারণ, সেখানে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে। কিন্তু অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। তাঁদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাড়িতে যদি পরিবারের কোনো সদস্য বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপসর্গ থাকে, তাহলে ওই শিক্ষার্থীকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো যাবে না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সরকারি ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। জেলা প্রশাসক ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। নগরী ও জেলার ১১৪৮ টি স্কুল কলেজ ছাড়াও মাদরাসাসমুহ পুরোদমে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তারা। সশরীরে ক্লাস শুরুর সাথে সাথে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে নানা রকম প্রস্তুতি। মাস্ক নেই, স্কুল নেই- এমন নোটিস ঝুলছে স্কুলের ফটকে। বসানো হয়েছে বেসিন, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্লাস রুম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। মাঠে গজিয়ে ওঠা ঘাস, জঙ্গল, ঝোপঝাড় কেটে সাফ করা হয়। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। ক্লাস রুমে, দেয়ালে জমে থাকা শেওলা পরিস্কার করা হয়। টয়লেট ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। ছাত্রাবাস খুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রুটিন প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাসা বাড়িতেও প্রস্তুতির কমতি নেই। নতুন ইউনিফর্ম, স্কুল ব্যাগ, মাস্ক নিয়ে ক্লাসে ফিরতে তৈরি তারা। এদিকে শিক্ষার্থীকে স্কুলে দিয়ে অভিভাবকদের স্কুলের সামনে জটলা না করার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান। নগরীর ডিসি হিল সংলগ্ন ন্যাশনাল প্রাইমারি স্কুল ও ডা. খাস্তগীর বালিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিভাবকরা যদি তার সন্তানটিকে স্কুলে দিয়ে চলে যান এবং ছুটি হলে নিতে আসেন তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটা এড়ানো সম্ভব। তাই অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা যেন স্কুলের বাহিরে অপেক্ষা না করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, মাস্ক ছাড়া কেউ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে পারবে না। শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতদের মাস্ক পরতে হবে। চট্টগ্রামে উপজেলা পর্যায়ের সকল স্কুল-কলেজ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পরিদর্শন করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
 
 
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
শিক্ষা পাতার আরো খবর

Developed by orangebd