ঢাকা : বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

সংবাদ শিরোনাম :

  • ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা          করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৬২ জন          বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত          জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মেডেল পেলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১১০ সদস্য          অষ্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের মধ্যে টিফা চুক্তি স্বাক্ষর          অনিবন্ধিত সব অনলাইন বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
printer
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২৩:৪৪:৩২আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:১৩:৪৩
‘ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ, পণ্য ক্রয়ে ক্রেতাদের সচেতন হতে হবে’
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা
মোঃ হাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ডব্লিউটিও সেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়


 

ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি। ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য ক্রয়ে ক্রেতাদের সচেতন হতে হবে। ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানান ।
তিনি জানান, সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, কিউকম, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুমসহ বিভিন্ন ই-কমার্সের বিষয় উঠে এসেছে। এইসব প্রতিষ্ঠান যেহেতু ইতোমধ্যে আইন অমান্য করেছে, তাই কমিটি সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালায় সরাসরি কোনো দায়িত্ব না নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রেফার করে দেবে তারা যাতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরই আলোকে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের এখন সিদ্ধান্ত আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের কাছে কমিটির সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করবো। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে আমরা এক্ষেত্রে আরো কিছু করতে পারবো কী-না। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছি। আমরা ১টির তথ্য পেয়েছি, বাংলাদেশ ব্যাংক বাকি ৯টির তদন্ত করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের কাছে অনুরোধ করেছিল যে, স্বাধীন তৃতীয় পক্ষ দিয়ে এই কোম্পানিগুলোর আয়-ব্যয়ের তথ্য যাচাই-বাছাই করা যায় কী-না। কিন্তু এটির আইনগত সমস্যা আছে। মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো কোম্পানির অডিট করতে পারবে  কী-না? এই বিষয়ে আমরা যাচাই করে দেখছি; আমরা যদি আইনগত মতামত পাই তবে তৃতীয় পক্ষের অডিটর দিয়ে অডিট করাবো।
একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা মামলা লাগে। এক্ষেত্রে সেই রকম কিছু হবে কী-না? ওই সাংবাদিকের প্রশ্নর জবাবে মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, মামলা করলে করবেন ভোক্তা কিংবা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে যে তথ্য পেয়েছি, ওখানে আমাদের একটা গ্যাপ পরিলক্ষিত হয়েছে, তার দায় ও সম্পদের মধ্যে বড় যে পার্থক্য সেটা কোথায় গেছে? এছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে সে টাকা নিয়েছে, বিনিময়ে পণ্য না দিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এই বিষয়গুলো ওখানে আসে। তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায়ও ডিজিটাল প্রতারণা আছে, সেখানেও এটা অপরাধ। ভোক্তা অধিকার আইনেও কিছু অপরাধ আছে। এই জায়গাগুলো চিহ্নিত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাচ্ছি। আগেও জানিয়েছি। এই মিটিংয়ের রেফারেন্সে আবার জানানো হবে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, সব কোম্পানি আরজেএসসিতে (যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়) নিবন্ধন করেনি। ই-অরেঞ্জ আরজেএসসিতে নিবন্ধন করেনি, তবে ইভ্যালি, ধামাকা এগুলো আরজেএসসিতে নিবন্ধন হয়েছে। আরজেএসসিতে নিবন্ধনের ফলে একটি কোম্পানির সৃষ্টি হয়, কিন্তু সে কী কাজ করবে তা কোম্পানি আইনে নেই। তিনি বলেন, খারাপ কিছু করলে কোম্পানি আইনে সরাসরি তাকে বন্ধ করার বিধান নেই। তবে যিনি সৃষ্টি করতে পারেন, তিনি আবার বন্ধও করতে পারেন। সেভাবে তারা বন্ধ করতে পারে। 
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এক বছর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রাথমিক একটি তদন্ত করেছে জানিয়ে ই-কমার্সে সেলের প্রধান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কিছু অপরাধ হয়েছে বলে ধারণা করায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৭টি সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিছু করেনি তা-নয়। মহামারি করোনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে এসওপিটা ফাইনাল করতে। হ্যাঁ, তখন যদি আরো হার্ড লাইনে যাওয়া যেত তাহলে হয়তো এতটুকু ড্যামেজ হতো না, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আমরা তখন থেকেই কাজ করে যাচ্ছিলাম। ইভ্যালিসহ এসব প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ পাচার হয়েছে বলে আপনি মনে করেন কী? এ বিষয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেছি যে, এই টাকা কোথায় গেছে, সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সন্দেহ আছে। পাচার হতে পারে বা অন্য কোথাও সরানো হতে পারে। এটি যেন তারা তদন্ত করে বের করে। এই তদন্ত এখনও অব্যাহত আছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালি কিংবা অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কী-না; জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি বাদী হয়ে মামলা করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগে যেমন একটা চিঠি দিয়েছিল ফ্যাক্ট উল্লেখ করে, আমরা এবারও সেভাবে চিঠি পাঠাবো। এত কিছুর পর গ্রাহকদের স্বার্থ আপনারা রক্ষা করতে পারবেন বলে কী মনে করেন জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, এটা পুরোপুরি নিশ্চয়তা দিয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। সরকার জনগণের জন্যই চেষ্টা করে যাচ্ছে। এখানে আমরা ইভ্যালির প্রতিও কোনো মায়া দেখাচ্ছি না, এমনকি মার্চেন্টের প্রতি যে খুব আগ্রহ তাও না, ক্রেতাদের প্রতি আমাদের আগ্রহ বেশি। ক্রেতা যেনো প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা পান, সেলক্ষ্যে আমরা যথেষ্ট আন্তরিক। অনেক ক্রেতা আছেন, না বুঝেই যুক্ত হয়ে গেছেন। আমরা চাই তারা এখান থেকে সেফলি বের হোক। তার পণ্যটা বুঝে পাক। মার্চেন্টরাও তাদের পাওনা বুঝে পাক সেটাই আলটিমেট টার্গেট। তবে আমি মনে করি, ই-কমার্সসহ যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে যে কোনো ধরণের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সচেতন হতে হবে।
 
 
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ-বাণিজ্য পাতার আরো খবর

Developed by orangebd